চাঁদা না দেওয়ায় কাজ বন্ধ করে দিলেন বিএনপি নেতা, মামলা

চাঁদা না পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান মাসুদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দুই ঠিকাদার। ঠিকাদারদের অভিযোগ, কাজ চালিয়ে নিতে হলে প্রকল্পের ৫ থেকে ৭ শতাংশ হারে চাঁদা দাবি করেছেন মাসুদ। চাঁদা না দিলে কাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাসুদ।

এ ঘটনায় গতকাল রবিবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-ফেনী সদরে দুই ঠিকাদার মামলা করেন। এর আগের দিন রাতে ফেনী মডেল থানায় ঠিকাদার এনায়েত উল্যাহ স্বপন ও সাইফুর রহমান রতন অভিযোগ দেন। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাতুল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার সাইফুর রহমান বলেন, ফেনী সদর উপজেলার দৌলতপুর-ধলিয়া এলাকায় তার দুটি সড়কের নির্মাণকাজ চলছিল। গত শনিবার দুপুরে কাজগুলো বন্ধ করে দেন মাসুদ। দুটি সড়কের প্রায় ২ কোটি ৮ লাখ টাকার কাজের বিপরীতে ৫ থেকে ৭ শতাংশ হারে চাঁদা দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা না দিলে কাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেন তিনি। বর্তমানে সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে। এর আগেও ফেনী শহরের এসএসকে সড়কে আমাকে মারধর করা হয় এবং বড় বাজার এলাকায় হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন সময় আমার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের চরহুজুরী সড়কের সংস্কারকাজ শেষ করার পর মাসুদ ও তার সহযোগীরা যন্ত্রপাতি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়।

অন্যদিকে স্বপন হার্ডওয়্যারের স্বত্বাধিকারী এনায়েত উল্যাহ স্বপনও মাসুদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, বিভিন্ন স্থানে ঠিকাদারি কাজের জন্য তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে মারধর করা হয়। স্বপনের অভিযোগ, ঠিকাদারি কাজের সিডিউল কেনার সময় ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির উদ্দিনের সঙ্গেও মাসুদের বাগ্বিত-া হয়। একপর্যায়ে তাকে গালাগাল, মারধরের চেষ্টা ও হাত কেটে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কামরুল হাসান মাসুদ বলেন, অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ। স্বপনের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপির কাছে জায়গা-সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে এবং সেটি তদন্তের জন্য তিনজনকে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই স্বপন তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। দৌলতপুর-ধলিয়ায় গিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ প্রসঙ্গে মাসুদ বলেন, তার বাড়ি ফেনী শহরে; ধলিয়ায় গিয়ে চাদা দাবির অভিযোগই প্রমাণ করে বিষয়টি ষড়যন্ত্রমূলক।

ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, সড়কের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি ঠিকাদার সাইফুর রহমান রতন তাকে জানিয়েছেন। উন্নয়নকাজে কেউ যাতে বাধা দিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। ফেনী মডেল থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, চাঁদার দাবিতে সড়কের কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় দুই ঠিকাদার অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কামরুল হাসান মাসুদের বিরুদ্ধে এর আগেও ঠিকাদারি ও উন্নয়নকাজ ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ফেনী পৌরসভার একটি বড় উন্নয়ন প্রকল্পের চুক্তি নিয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির উদ্দিনের সঙ্গে তার বিরোধের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। জাকির উদ্দিন অভিযোগ করেছিলেন, তাকে লাঞ্ছিত করা ও হাত কেটে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে মাসুদ ওই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ তুলেছিলেন।

এদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) মাধ্যমে ফেনী শহরের ট্রাংক রোডের জিরো পয়েন্ট থেকে মহিপাল পর্যন্ত ড্রেন পুনর্নির্মাণ, ফুটপাত নির্মাণ, ডাক্তারপাড়া, শিল্পকলা একাডেমি সড়ক, জয়নাল আবেদিন সড়ক ও পাঠানবাড়ী রোড উন্নয়নসহ প্রায় ২৮ কোটি টাকার একটি পাইলট প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান পিডিএল।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, চাঁদার দাবিতে হামলা, ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধরের কারণে কাজ শুরু করতে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।