পায়রার ভয়াবহ ভাঙন নিঃস্ব শতাধিক পরিবার

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাঙ্গাশিয়ার পায়রা নদীর তীরবর্তী আলগী গ্রামে ভয়াবহ ভাঙনে অন্তত দুই শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। একই নদীর বাহেরচর এলাকাতেও পাল্লা দিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা ভেঙে পড়ছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় আরও শতাধিক বসতবাড়ি ঝুঁকিতে রয়েছে। মসজিদ, মন্দির ও গোরস্তানের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় মৃতদের দাফন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

গতকাল রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পায়রা নদীর ভাঙনে আলগী গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে বিলীন হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে নদীর স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে। ওয়াপদা বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকাও এখন ঝুঁকির মুখে।

স্থানীয়রা জানান, গত পাঁচ থেকে ছয় বছরে প্রায় দুই শতাধিক পরিবার তাদের ভিটেমাটি, বসতঘর ও

কৃষিজমি হারিয়েছে। অনেকেই ঘরবাড়ি সরিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ বেড়িবাঁধের পাশে অস্থায়ী ঘর তুলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জীবিকা হারিয়ে অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে শহরে পাড়ি জমিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জাকির বিশ্বাস বলেন, ভয়াবহ ভাঙনে আমরা সবকিছু হারিয়েছি। ঘরবাড়ি, জমিজমা-কিছুই অবশিষ্ট নেই। সহায়তার আশায় থাকলেও এখনো কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। তিনি দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বেশিরভাগই ওয়াপদা বেড়িবাঁধের পাশে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার সংকট রয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের তৎপরতাও পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এলাকাবাসী জানান, ভাঙনের কারণে গ্রামের গোরস্থানের একটি অংশ ইতিমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে এবং বাকি অংশও ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে মৃতদের দাফনের জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। গোরস্থান রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে নদীশাসন বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, পায়রা নদীর ভাঙনে আলগী গ্রাম প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। অবশিষ্ট অংশও দ্রুত নদীগর্ভে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বাহেরচর এলাকাতেও একইভাবে ভাঙন বিস্তৃত হচ্ছে বলে তিনি জানান। তিনি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন বলেন, আলগী ও বাহেরচর এলাকার ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও টেকসই কোনো সমাধান হয়নি। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই ভাঙনের তীব্রতা বাড়ে এবং নতুন করে পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়