'অকেজোরা শুধু মেসিকেই চাপে ফেলছে!’- তীব্র ক্ষোভ সমর্থকদের

লিওনেল মেসির রেকর্ড গড়া ফ্রি-কিক গোল এবং লুইস সুয়ারেজের জাদুকরি পারফরম্যান্সও শেষ পর্যন্ত রক্ষা করতে পারল না ইন্টার মায়ামিকে। অ্যান্ডার্স ড্রায়ারের জোড়া গোলে সান দিয়েগো এফসির বিপক্ষে ২-২ ড্র নিয়ে ঘরের মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের।

এই পারফরম্যান্সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষুব্ধ ভক্তরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।  তারা দলের ভঙ্গুর রক্ষণভাগ ও অতিরিক্ত বয়সভিত্তিক তারকা নির্ভরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

চেজ স্টেডিয়ামে সান দিয়েগোর বিপক্ষে জয় হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই ইন্টার মায়ামি সমর্থকদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এমএলএস-এ এটি তাদের টানা চতুর্থ ড্র। ম্যাচটিতে মেসি ক্যারিয়ারের ৯৩০তম এবং মায়ামির হয়ে ১০১তম গোল করেন এবং সুয়ারেজও দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু দলের নড়বড়ে ডিফেন্স লিড ধরে রাখতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়।

ম্যাচের ১২ মিনিটেই রক্ষণের দুর্বলতায় পিছিয়ে পড়ে মদয়ামি। জেপ্পে তভারস্কোভের থ্রু বল থেকে দারুণ এক চিপে বল জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন অ্যান্ডার্স ড্রায়ার।

​তবে সমতায় ফিরতে বেশি সময় নেয়নি স্বাগতিক ইন্টার মায়ামি। ম্যাচের ২৪ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে ফ্রি-কিক পায় মায়ামি। মেসি আইকনিক শটে বল সরাসরি দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়ায়। মেসির পেশাদার ক্যারিয়ারে এটি ৭৫তম ফ্রি-কিক গোল।

​প্রথমার্ধের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধেও লড়াই জমে ওঠে। ম্যাচের ৭৪ মিনিটে ডি পলের অ্যাসিস্টে সুয়ারেজ গোল করে মায়ামিকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। মনে হচ্ছিল ঘরের মাঠে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে হেরনসরা। কিন্তু ৮২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে সান দিয়েগোকে সমতায় ফেরান সেই অ্যান্ডার্স ড্রায়ার।

লিগে টানা চতুর্থ ড্রয় এটি ইন্টার মায়ামির। এতে মায়ামির সংগ্রহ ২৬ ম্যাচে ৪৬ পয়েন্ট (১২ জয়, ৪ হার ও ১০ ড্র) নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে মায়ামি। আর মাত্র ৮ ম্যাচ বাকি তাদের। 

ম্যাচ শেষে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে এক সমর্থক লেখেন, "এই অকেজো ক্লাব শেষ ৯০ মিনিট পর্যন্ত একটা লিড ধরে রাখতে পারে না, তারা প্রতি ম্যাচেই শুধু মেসিকে চাপে ফেলছে।"

অন্য একজন ডিফেন্ডারদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, "ডিফেন্ডাররা কয়টা মিনিটও ডিফেন্ড করতে পারে না! মেসি ৩৮ বছর বয়সেও নিজের সেরাটা দিয়ে যাচ্ছে আর পেছনের এই ছাইপাঁশ ডিফেন্স সব পরিশ্রম মাটি করে দিচ্ছে।"

কেউ কেউ বলছেন, আক্রমণভাগে রেকর্ড গোল (৬৩টি) করার পরও কেবল শোচনীয় রক্ষণভাগের কারণে জয় হাতছাড়া হচ্ছে। অনেকে তো লুইস সুয়ারেজের পুরো সময় খেলা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

২৭ সেপ্টেম্বর কলম্বাস ক্রুর বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই ডেভিড বেকহ্যামের দলের সামনে।