দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যখন পর্তুগালের জার্সি চিরতরে তুলে রাখলেন, তখন গোটা ফুটবল বিশ্ব তাকে শ্রদ্ধা জানাতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেনি। কিন্তু সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এখন অন্য জায়গায়, যিনি সারাজীবন মাঠে ও মাঠের বাইরে তাঁর সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, সেই লিওনেল মেসি কেন এখনো মুখ খুললেন না?
দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলকে আচ্ছন্ন করে রাখা এই দুই মহাতারকার সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক নীরবতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
ক্রীড়া সম্প্রচার মাধ্যম ইএসপিএন-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোনালদোর অবসরের পর থেকে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া বা শুভেচ্ছা বার্তা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আরো বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে কারণ, অতীতে যখন মেসি তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বিদায় নিয়েছিলেন, তখন পর্তুগিজ যুবরাজ রোনালদো প্রকাশ্যে তাঁকে শ্রদ্ধা ও শুভকামনা জানিয়েছিলেন।
কিন্তু ঠিক বিপরীত দৃশ্য দেখা গেল এবার। রোনালদোর বিদায়ের পর থেকে লা আলবিসেলেস্তের অধিনায়ক এখনো এই বিষয়ে একটি লাইনও খরচ করেননি।
ফুটবল বিশেষজ্ঞরা এই নীরবতার পেছনে নানা কারণ খোঁজার চেষ্টা করছেন। একদল বিশ্লেষকের মতে, মেসি স্বভাবগতভাবেই কিছুটা অন্তর্মুখী এবং মিডিয়ার সামনে খুব বেশি আবেগ প্রকাশ করতে পছন্দ করেন না। তবে অন্য একটি পক্ষের জোরালো মত হলো, আধুনিক ফুটবলের এই দুই টাইটান দীর্ঘ দুই দশক ধরে একে অপরের বিরুদ্ধে যে তীব্র লড়াই চালিয়ে গেছেন এবং তাদের সম্পর্কের যে অদৃশ্য দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, এটি তারই একটি সচেতন বহিঃপ্রকাশ।
১৩টি ব্যালন ডি’অর নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং রেকর্ড বুকের প্রায় প্রতিটি পাতা নিজেদের দখলে নেওয়া এই দুই কিংবদন্তির সম্পর্কের এই শীতলতা বা নীরবতা তাই ভক্ত-সমর্থকদের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ফিগোর থেকে মশাল নিয়ে পর্তুগালকে বদলে দেওয়া রোনালদো