‘বুলেট অ্যান্ট’ বা ‘বুলেট পিঁপড়া’, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী হুলযুক্ত পিঁপড়ার অন্যতম। এর হুলের তীব্র যন্ত্রণা বন্দুকের গুলির আঘাতের মতো। ভেনেজুয়েলা এবং অন্যান্য স্থানীয় অঞ্চলে একে ‘২৪-আওয়ার অ্যান্ট’ বলা হয়। কারণ হুলের তীব্র যন্ত্রণা প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী। এটি দেখতে সাধারণ পিঁপড়ার তুলনায় অনেক বড়। সাধারণত এরা বড় বড় গাছের গোড়া, মাটির নিচে বা গাছের শেকড়ের ফাঁকে সুড়ঙ্গ তৈরি করে বাসা বানায়। একটি কলোনিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার পর্যন্ত পিঁপড়া থাকে। বুলেট পিঁপড়া সর্বভুক। তবে প্রধানত গাছের মিষ্টি রস পান করে। পতঙ্গবিদ জাস্টিন স্মিথ পোকামাকড় কামড়ের যন্ত্রণার যে সূচক তৈরি করেছেন, তাতে বুলেট পিঁপড়ার কামড়কে সর্বোচ্চ রেটিং ‘৪.০+’ দেওয়া হয়েছে। তবে এর বিষ মানুষের জন্য প্রাণঘাতী নয়। বুলেট পিঁপড়া আক্রমণাত্মক নয়, কিন্তু নিজেদের বিপদগ্রস্ত মনে করলে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ব্রাজিলের আমাজন রেইন ফরেস্টের ‘সাতেরে-মাওয়ে’ উপজাতির মধ্যে, ছেলেদের যোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রাচীন নিষ্ঠুর রীতি রয়েছে। এই দীক্ষা অনুষ্ঠানে তরুণদের পাতায় বোনা বিশেষ গ্লাভস বা দস্তানা পরতে হয়, যার ভেতরে শত শত জ্যান্ত বুলেট পিঁপড়া ভরা থাকে। প্রায় ১০ মিনিট পিঁপড়াদের কামড় সহ্য করেন তারা। পূর্ণ যোদ্ধা হতে এইভাবে জীবনে অন্তত ২০ বার এমন যন্ত্রণাদায়ক পরীক্ষা পার করতে হয়। কর্মী বুলেট পিঁপড়ার গড় আয়ু সর্বোচ্চ ৯০ দিন, পুরুষ ৪ মাস এবং রানী পিঁপড়া ২-৩ বছর বাঁচে।