পর্যটন খাতে ১৯ হাজার কোটি টাকার ৬০ প্রকল্প প্রস্তাব

দেশের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান বাড়াতে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকার ৬০টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনের শৈলপ্রপাত মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা এবং এর বিকাশে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানের সভাপতিত্বে এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জিয়াউল হক হাওলাদার। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

সভায় জানানো হয়, দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃতভাবে চিহ্নিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্পটের মধ্য থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকার ৬০টি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। প্রস্তাবগুলো বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে পর্যটন শিল্প থেকে জাতীয় অর্থনীতিতে ৮ থেকে ১০ শতাংশ অবদান রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে পর্যটন শিল্পে বর্তমানে কর্মরত প্রায় ২৪ লাখ মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দেশে সার্কুলার ইকোনমির ভিত্তি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিও সচল হবে। প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে যোগাযোগব্যবস্থা, রাস্তাঘাট, যানবাহন, বিমানবন্দর, নৌবন্দর ও আবাসনসহ প্রয়োজনীয় মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, পর্যটন সম্ভাবনাময় কেন্দ্রগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন সুবিধা চালু করতে হবে। পাশাপাশি দক্ষ পর্যটন গাইড তৈরি, ঐতিহ্যবাহী ও আঞ্চলিক রান্নার প্রসার এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।