বস্ত্র খাতে সহযোগিতার আশ্বাস রাষ্ট্রপতির

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৬ এএম

জাতীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বস্ত্রশিল্পের অবদানের প্রশংসা করে এ খাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে সংগঠনটির ২২ সদস্যের প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎকালে তিনি এ আশ্বাস দেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সচিবরা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বস্ত্র খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বস্ত্র খাতকে এগিয়ে নিতে প্রতিযোগী দেশগুলোর মতো বাংলাদেশের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও বাস্তবভিত্তিক সমন্বিত নীতি সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি নেতাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি নেতাদের এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে সরকারের নীতি-নির্ধারণী মহলে তুলে ধরারও পরামর্শ দেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ বিভিন্ন কারণে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও আমরা আমাদের অর্থনীতিকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। তিনি বলেন, বর্তমানে গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ফলে অর্থনীতির খাতগুলোকে পুনর্নির্মাণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্রপতি এ সুযোগকে কাজে লাগাতে দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে জ¦ালানি সংকট সব থেকে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, বিগত সময়ে দেশের নিজস্ব গ্যাস ও জ¦ালানি অনুসন্ধান ও আহরণ এবং দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোনো উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, জ¦ালানি সমস্যার সমাধানে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

সাক্ষাৎকালে বিটিএমএ- সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল দেশের অর্থনৈতিক খাতে বস্ত্রশিল্পের অবদান তুলে ধরেন। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে দেশের বস্ত্র খাতের বিকাশ ও উন্নয়নে গৃহীত উদ্যোগগুলো তুলে ধরে বস্ত্র খাতের বর্তমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এ সময় নেতারা দেশীয় বস্ত্রকলকে সুরক্ষা দিতে ১০-৩০ কাউন্টের কটন (তুলা) সুতা আমদানির ক্ষেত্রে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার ও ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুতা আমদানির সুযোগ প্রদানের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত