দিল্লিতে ভবন ধস: ৬ আসামির কারাগারে থাকার মেয়াদ বাড়ল

ভারতের দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় ভবন ধসের ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয় আসামির বিচারিক হেফাজতের মেয়াদ আরও ১৪ দিন বাড়িয়েছেন আদালত।

সোমবার পাতিয়ালা হাউস আদালত এ আদেশ দেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর ওই ভবন ধসে সাতজনের মৃত্যু হয়।

আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ভবনের মালিকের ছেলে মহেশ গুপ্ত, তার বাবা-মা, পিজি পরিচালনাকারী শুভম ত্যাগী ও সুধাংশু এবং শ্রমিক ঠিকাদার সানোজ। আগের হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাদের আদালতে হাজির করা হলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আরও ১৪ দিনের বিচারিক হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

দক্ষিণ দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের কাছে পাঁচতলা ভবনটি ‘হোস্টেল ডেজ’ নামে ছেলেদের থাকার পেইং গেস্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। গত ৬ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টার দিকে ভবনটি হঠাৎ ধসে পড়ে। এতে সাতজন নিহত হন।

ঘটনার পর ভবনের মালিক ৭৫ বছর বয়সী উর্মিলা, তার ৮১ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত স্বামী হরিরাম এবং ৫২ বছর বয়সী ছেলে মহেশ গুপ্তকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে মহেশ পুলিশকে জানান, বাবা-মায়ের হয়ে তিনিই ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি দেখভাল করতেন।

২০২৫ সালের আগস্টে ভবনটি শুভম ত্যাগী ও সুধাংশুর কাছে ইজারা দেওয়া হয়। এরপর তারা সেখানে ‘হোস্টেল ডেজ’ নামে পেইং গেস্ট আবাসন চালু করেন।

অন্যদিকে ভবনের বেসমেন্টে সংস্কারকাজের দায়িত্বে থাকা শ্রমিক ঠিকাদার সানোজকে উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সানোজ জানান, বেসমেন্টে সংস্কারকাজ চলছিল। বর্ষার কারণে সেখানে গত আট থেকে ১০ দিন ধরে বর্জ্য জমে ছিল।

পুলিশ আরও জানায়, ভবনের নিচতলায় বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের জন্যও সংস্কারকাজ চলছিল। ভবনটির মালিক, পেইং গেস্ট পরিচালনাকারী এবং সংস্কার ও নির্মাণকাজে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় দিল্লি পৌর করপোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তাকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীর পেইং গেস্ট আবাসনগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে পৃথক কয়েকটি আবেদনের শুনানি করছেন দিল্লি হাইকোর্ট।