বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেছেন, ‘সালাহউদ্দিন সাহেব ইজ এ ফেইলড হোম মিনিস্টার।’ তিনি অভিযোগ করেন, সারাদিন চেষ্টা করেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। তাঁর দাবি, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর শিল্পাঞ্চল থানার উত্তর বেগুনবাড়ি এলাকায় এলাকাবাসীর আয়োজনে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. উল্লাহ ভূইয়া হারুনের ব্যবস্থাপনায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. রিয়াজ উদ্দিন।
সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, কুমিল্লায় একটি শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। খুলনায় একটি ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। লোকজনকে মারা বা ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করবেন—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘হোম মিনিস্টার কি আঙুল চুষবেন?’ তাঁর ভাষ্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিষ্ক্রিয় থাকলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।
চাঁদাবাজি বন্ধের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে শুধু তাঁর জীবন দেওয়া বাকি রয়েছে। তিনি দাবি করেন, সরকারি দলের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করছে এবং নির্বাচনের আগেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলেছেন। এখনো তিনি চাঁদাবাজি বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছেন।
তিনি বলেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্য থাকলেও হোম মিনিস্ট্রি সহযোগিতা না করলে তাঁর পক্ষেও একা চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব নয়।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সামাজিকভাবে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, পাড়া-মহল্লায় মানুষকে একত্রিত করে কমিটি গঠন করতে হবে। চাঁদা না দেওয়া এবং মাদক বিক্রি করতে না দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এভাবে মহল্লায় মহল্লায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি এবং বলেন, তাঁরা স্থানীয়দের সঙ্গে থাকবেন।
চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথাও বলেন সাইফুল আলম খান মিলন। তিনি বলেন, সরকার যদি তাদের বাহিনী দিয়ে দেশের অনাচার-অত্যাচার বন্ধ করতে না পারে, তাহলে মানুষকে মাঠে নামা ছাড়া উপায় থাকবে না। তাই এখনো সময় আছে বলে এসব বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিসে শূরা সদস্য ও শিল্পাঞ্চল থানা আমীর মো. কলিম উল্লাহ এবং থানা সেক্রেটারি নূর উদ্দিন মো. জাহিদ। এ ছাড়া স্থানীয় বিশিষ্টজন, আলেম-ওলামা, যুবক, শিক্ষক ও মহল্লা কমিটির নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।