সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে। এ কারণে সরকার একের পর এক গণবিরোধী কাজ করছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার গণভোটের রায় মেনে নেয়নি। সংসদে জুলাই সনদ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ও গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ সব অধ্যাদেশ বাতিল করেছে।

জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলের আগে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি জনগণের ওপর প্রভাব ফেলে। কিন্তু সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সাত মাসের মধ্যে তিনবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। ফলে দ্রব্যমূল্যসহ সবকিছুর দাম বেড়ে জনগণকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে আমরা তাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সহযোগিতা করেছিলাম। কিন্তু তখনও সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী টুকু সাহেবের ব্যর্থতার কারণে সরকার বেকায়দায় পড়েছিল। এখনও আবার সেই টুকু সাহেবকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে জনগণকে দুর্ভোগের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণ এখন আর বলেন না, ‘বিদ্যুৎ যায় আর আসে’; জনগণ বলে, ‘টুকু যায় আর আসে।’ এই নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা থেকে দেশকে রক্ষা করতে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে করণীয় নির্ধারণের জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তা না হলে জনগণ যেভাবে লংমার্চে রাজপথে নেমে এসেছে, পরবর্তীতে দেখা যাবে গ্রামগঞ্জ থেকে মানুষ লংমার্চ নিয়ে ঢাকার দিকে ছুটছে। তখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে না বলেও সরকারকে সতর্ক করেন তিনি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির সঞ্চালনায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, সরকার রাতের আঁধারে প্রতি লিটার তেলের দাম ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে। সাত মাসে তিনবার তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার জনগণের ঘাড়ে ভোগান্তির বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়লেও মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। সর্বস্তরে দলীয়করণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি চলছে। পুলিশকে দলীয় বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিতে মানুষ উদ্বিগ্ন।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করে তারা সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সরকার জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে গণবিরোধী সরকারে পরিণত হয়েছে। অবিলম্বে গভীর রাতে তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসেন বলেন, বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের সাত মাসে তিনবার তেলের দাম বাড়িয়েছে। জ্বালানি তেলের সঙ্গে প্রতিটি খাত জড়িত থাকায় তেলের দাম বাড়লে এর প্রভাব সব খাতে পড়ে। কিন্তু সরকার জনগণের কথা চিন্তা না করে দুর্নীতিবাজদের স্বার্থে দফায় দফায় তেলের দাম বাড়াচ্ছে।

ডাকসু ভিপি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী সাদিক কায়েম বলেন, গত সাত মাসে বিএনপি সরকারের ব্যর্থতার জন্য জনগণকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধান করতে না পারলে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রশাসনে দলীয়করণ করে এবং রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখা যায় না। ক্ষমতা হতে হবে জনতার জন্য। তা না হলে জনতা যথাসময়ে যথাযথ জবাব দেবে।

সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জনগণের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে সাদিক কায়েম বলেন, এসব ভোগান্তি দলীয় প্রশাসক দিয়ে নিরসন সম্ভব নয়। ভোগান্তি নিরসনে অবিলম্বে স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন দিয়ে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দ্রব্যমূল্য আরও ঊর্ধ্বগতির দিকে যাবে। এতে জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব পড়বে।

তিনি বলেন, সরকার মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যার কথা বলে তেলের দাম বাড়াচ্ছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যার চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে সিন্ডিকেট, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা। সরকার পে-স্কেল দেওয়ার আগেই তেলের দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

পে-স্কেলে ২৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবীকে সামান্য সুবিধা দেওয়ার নামে ১৮ কোটি জনগণের পকেট কেটে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার জন্য সরকার তেলের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলসহ সর্বক্ষেত্রে লুটপাট চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন দেশের বাইরে, তখন মধ্যপ্রাচ্যের কথা বলে গভীর রাতে তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত শুধু জনগণের ভোগান্তিই সৃষ্টি করবে না, সরকারকেও বিপাকে ফেলবে। গণবিরোধী এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশ শেষে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিজয়নগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত