বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল পাকিস্তানের কাছে ৩১ রানে হেরে ব্রোঞ্জপদক হাতছাড়া করল, তখন শুধু একটি ম্যাচ বা পদকই হারায়নি তারা; বরং উন্মোচিত হয়েছে দেশের নারী ক্রিকেটের ভেতরের গভীর ক্ষত ও অব্যবস্থাপনার নির্মম চিত্র। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এই প্রথম খালি হাতে দেশে ফিরতে হচ্ছে নিগার সুলতানা জ্যোতিদের।
তবে জাপানের নাগোয়ার কোরোগি স্পোর্টস পার্কে মাঠের বাজে পারফরম্যান্স ও টুর্নামেন্টজুড়ে জয়হীন থাকার ব্যর্থতার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে কোচ সরোয়ার ইমরানের বিস্ফোরক সব মন্তব্য। টুর্নামেন্ট চলাকালীন দলের নেতৃত্ব ও কোচিং স্টাফের ভবিষ্যৎ নিয়ে টানাটানির জন্য সরাসরি বোর্ড ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিনি।
এশিয়া কাপের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর থেকেই নানা সমালোচনার মুখে ছিলেন জ্যোতিরা। এরই মধ্যে এশিয়ান গেমসের শেষ অ্যাসাইনমেন্টে নামার আগে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন জ্যোতি। অন্যদিকে মাস ঘুরলেই চুক্তি শেষ হতে যাওয়া কোচ ইমরানকেও যে আর রাখা হচ্ছে না, সেই গুঞ্জনও ডালপালা মেলতে শুরু করে। ঠিক এমন এক ভঙ্গুর ও অস্থির পরিবেশেই মাঠে নেমেছিল দল।
জাপানের মাটিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলের এমন বেহাল দশার জন্য সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বাংলাদেশ দলের বিদায়ী প্রধান কোচ ইমরান বলেন, ‘টুর্নামেন্ট চলাকালীন এটা হওয়া (নতুন কোচের খবর, অধিনায়ক বিদায়)... আমরা একটা টুর্নামেন্ট খেলছি, হেড কোচ আর ক্যাপ্টেনদের আপনি সাইজ করে দিলেন, তো কীভাবে আপনি আশা করেন?’
মাঠের খেলায় পাকিস্তানের দেওয়া ১৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লের প্রথম ছয় ওভারে মাত্র ২৪ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে দল। দলের এই ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে আরও স্পষ্ট করে কোচ ইমরান বলেন, ‘আমাদের আসলে সমস্যাটা শুরু হয়েছে এশিয়া কাপ থেকে। আমরা এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার সাথে ক্লোজ ম্যাচ হারি। হারার পর থেকেই আমাদের বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর-টবর এসব নিয়ে... এমনকি আমরা ইন্দোনেশিয়া এবং ইউএই-র মতো টিমের সাথেও ১২০-১২৩০ করতে আমরা পারিনি। এবং ওই জিনিসটা এখনও ক্যারি করতেছি আমরা এশিয়ান গেমসে।’
পাওয়ার প্লেতে দলের পিছিয়ে পড়া প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আজকে হয়তো আমরা যদি পাওয়ার প্লেতে ভালো ব্যাটিং করতে পারতাম, ম্যাচটা জেতা সম্ভব ছিল। ১৪৫ রান মানে পাওয়ার প্লেতে একটা মোটামুটি ৪০-৪৫ এর একটা করতে পারলে...পাওয়ার প্লেটাই আমাদের হারিয়েছে।’
কেবল হারের কারণ ব্যাখ্যা করেই থেমে থাকেননি অভিজ্ঞ এই কোচ, বরং দীর্ঘমেয়াদী সংকটের পেছনের কারণ হিসেবে কাঠামোগত দুর্বলতাকেও টেনে এনেছেন। আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম প্রধান অস্ত্র বড় শট বা ছক্কা হাঁকানোর সামর্থ্য যে নেই, তা স্বীকার করে ইমরান বলেন, ‘নারী ক্রিকেট একটা জায়গায় আটকে আছে। দল নেট প্র্যাকটিস করল, তারপর খেলতে গেল- এটা কিন্তু এই রকম না। এখানে প্রসেস আছে। শ্রীলঙ্কায় শত শত মেয়ে স্কুল ক্রিকেট খেলছে। আমাদের কিন্তু ওই রকম কোনো স্ট্রাকচার নেই। নতুন কোনো প্লেয়ার নেই, আমরা ৩০ জনের বেশি প্লেয়ার বের করতে পারি না। এই জিনিসগুলো একটু খেয়াল করতে হবে।’