একটি নদী, অথচ নেই সেতু। বর্ষায় ছোট নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে নদীর ওপর তৈরি হওয়া অস্থায়ী পথই ভরসা চার উপজেলার মানুষের। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়াসহ প্রতিদিনের নানা কাজে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে জামালপুরের ঝিনাই নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া এলাকায় ঝিনাই নদী পারাপারের অন্যতম ভরসা ছোট নৌকা। বর্ষায় নদীতে পানি বাড়লে নৌকায় পারাপার করতে হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানি কমে গেলেও নদীর ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় যোগাযোগের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মেলে না।
সেতু না থাকায় মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, জামালপুর সদর ও সরিষাবাড়ী উপজেলার কয়েক লাখ মানুষকে বিভিন্ন প্রয়োজনে ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক ও রোগীদের দুর্ভোগ বেশি। স্থানীয়দের দাবি, নদী পারাপারের সময় ছোট নৌকা থেকে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার।
এলাকাটি কৃষিনির্ভর হওয়ায় সেতুর অভাবে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন কৃষকরা। উৎপাদিত কৃষিপণ্য সরাসরি জেলা শহরসহ বিভিন্ন বাজারে নিতে অতিরিক্ত সময় ও পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের। সেতু নির্মাণ হলে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
প্রকল্প অনুযায়ী, চর ঘোষেরপাড়া-দক্ষিণ ঘোষেরপাড়া থেকে দাখিল মাদ্রাসা সড়কের সংযোগস্থলে ঝিনাই নদীর ওপর প্রায় ৩৬০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের কথা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ কোটি টাকা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট দূর করতে দ্রুত সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হবে। সেতুটি বাস্তবায়িত হলে চার উপজেলার মানুষের যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসবে বলে মনে করছেন তারা। ।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. খলিলুর রহমান বলেন, আমরা কোন রোগীদের সঠিক সময় হাসপাতালে নিতে পারি না । বন্যা হলে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহতে হয় । এই এলাকার একমাত্র বাহন নৌকা আর পানি না থাকলে আরও বিপদে পরতে হয় । এখানে একটি বিদ্যালয় আছে, যেখানে ১২শত শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। তারা সময় মত বিদ্যালয়ে যেতে অনেক সমস্যায় পরতে হচ্ছে।
কৃষক আলাল উদ্দিন জানান, একটি মাত্র সেতুর জন্য আমাদের উৎপাদিত কৃষিপন্য সঠিক দাম পাই না ।এছাড়াও কৃষিযন্ত্রপাতি আনা নেয়া অনেক সমস্যায় আছি । এই এলাকায় আমাদের ছেলে মেয়েদের বিয়ে দিতে অনেক সমস্যা। আমাদের সাথে কেউ সমন্ধ করতে চায় না যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল না থাকার কারণে। এতে আমরা সামাজিক ভাবে অনেক পিছিয়ে পরছি।
ইমরান আলী জানান, এই সেতুটি নির্মাণ হলে শুধু এলাকার অবকাঠামোর উন্নয়ন হবে না বরং র্দীঘ দিনের দুঃখ কষ্টের অবসান ঘটবে। আমরা চাই সেতুটি নির্মাণে ফলে চারটি উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ উপকৃত হবে। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া করা হোক।
মীর ইসহাক হাসান ইখলাস স্থানীয় একটিভিস্ট জানিয়েছেন, দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টার কারণে পল্লী সেতু নির্মাণের অনুমোদন হয়েছে। কিন্তু এত কিছু চুড়ান্ত হওয়ার পর ব্রিজটি টেন্ডারে যাচ্ছে না তার কারণে আমরা চার উপজেলার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষদের সাথে নিয়ে নানা সময় মানববন্ধন, বিক্ষোভ, আলোচনা সভা দৌড়ঝাপ করেই যাচ্ছি। তবে ভবিয্যতে যদি আরও কালক্ষেপন করা হয় আমরা লংমার্চসহ বড় কমর্সূচি দিতে বাধ্য হব ।
এদিকে ঝিনাই নদীর ওপর সেতু নির্মাণের প্রকল্প ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
সেতুটি নির্মাণ হলে জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার পথ কমে আসবে। তবে প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরও এখনো টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
দ্রুত টেন্ডার করে নির্মাণকাজ শুরুর দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করছেন তারা।
এ বিষয়ে জামালপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রমজান আলী বলেন, ঝিনাই নদীর ওপর ৩৬০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর প্রাথমিক নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। প্রয়োজনীয় সার্ভে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে ডিজাইনের কাজ চলছে। অনুমোদন পাওয়ার পর দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাওয়ার কথা জানান তিনি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট দূর করতে দ্রুত সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হবে। সেতুটি বাস্তবায়িত হলে চার উপজেলার মানুষের যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসবে বলে মনে করছেন তারা।