ক্রিকেটারদের মধ্যে দৌড়ে সেরা কে

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) নতুন মৌসুম শুরুর আগে গতকাল জাতীয় স্টেডিয়ামের অ্যাথলেটিক ট্র্যাকে ফিটনেস পরীক্ষা দেন ৮ বিভাগীয় দলের প্রথম ও দ্বিতীয় একাদশের অধিকাংশ ক্রিকেটার। সব মিলিয়ে ১৮৩ জন অংশ নেন। তবে ব্যর্থ হয়েছেন দুজন। জানা গেছে, বরিশাল বিভাগের স্পিনার সোহাগ গাজী ও সিলেটের ব্যাটসম্যান তৌফিক খান তুষার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১,৬০০ মিটার দৌড় শেষ করতে পারেননি।

ফিটনেস পরীক্ষায় ব্যর্থদের অবশ্য এখনই ছিটকে যেতে হচ্ছে না। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে আরও দুটি সুযোগ পাবেন ক্রিকেটাররা। প্রতিটি পুনঃপরীক্ষার মধ্যে থাকবে ১০ দিনের বিরতি। অর্থাৎ প্রথমবার ব্যর্থ হওয়ার ১০ দিন পর দ্বিতীয়বার এবং সেখানেও ব্যর্থ হলে আরও ১০ দিন পর তৃতীয়বার পরীক্ষা দিতে পারবেন সোহাগরা। এ নিয়ে বিসিবির ট্রেনার ইফতেখার রহমান ইফতি বলেন, 'কেউ যদি ফেল করে বা হয়তো অসুস্থ ছিল, তাহলে আমরা ১০ দিন পর আবার পরীক্ষা নেব। সেখানেও যদি ফেল করে, তাহলে আরও ১০ দিন পর আরেকটি পরীক্ষা নেওয়া হবে।'

তবে তিন দফা সুযোগেও যারা নির্ধারিত মান অর্জন করতে পারবেন না, তাদের জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত অপেক্ষা করছে। এমন ক্রিকেটারদের এনসিএলে খেলার সুযোগ দেবে না ক্রিকেট বোর্ড। এমনকি বিসিবি যেসব টুর্নামেন্টে ফিটনেসের মানদণ্ড প্রযোজ্য, সেসব প্রতিযোগিতাতেও তাদের বিবেচনা করা হবে না। বোর্ড সূত্রে আরও জানা গেছে, পরবর্তী মৌসুমের প্রথম শ্রেণির চুক্তির ক্ষেত্রেও তারা বিবেচনার বাইরে থাকবেন।

তবে ফিটনেস পরীক্ষায় ব্যর্থদের নিয়ে কাজ করা হবে বলে মন্তব্য করেন ইফতি, 'যাদের ফিটনেসে দুর্বলতা আছে, তাদের দায়িত্ব আমরা নেব। শেষ পর্যন্ত তারা যদি ফেল করে, তাহলে তো কোথাও যেতে পারবে না। তাই আমরা চেষ্টা করব তাদের পাস করাতে। সে ক্ষেত্রে ফিটনেস ট্রেনিং বাড়ানো হবে। তবে তারা খেলতে পারবে কি না, সেটা বলতে পারছি না, কারণ সেই সিদ্ধান্ত বোর্ডের।'

আজ প্রথম দফার পরীক্ষায় অধিকাংশ ক্রিকেটারই নির্ধারিত সময়ের আগে দৌড় শেষ করেন। পেসারদের জন্য ১,৬০০ মিটারে মানদণ্ড ছিল ৭ মিনিট এবং অন্য ক্রিকেটারদের জন্য ছিল ৭ মিনিট ২০ সেকেন্ড। যেখানে সাব্বির রহমান ৬ মিনিট ২২ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেন। নুরুল হাসান সোহানের সময় লেগেছে ৬ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড। নাঈম শেখ আরও দ্রুত দৌড়েছেন, তাঁর সময় লেগেছে ৬ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সভাপতি ও খুলনা বিভাগের অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পরীক্ষা শেষ করেছেন। তাঁর সময় ছিল ৬ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের মতো।

ফিটনেস পরীক্ষায় সবচেয়ে ভালো ফলগুলোর একটি এসেছে পেসার রিপন মণ্ডলের কাছ থেকে। জানা গেছে, ডানহাতি এই পেসার মাত্র ৫ মিনিট ৪১ সেকেন্ডে ১,৬০০ মিটার দৌড় শেষ করেছেন। আরেক উঠতি পেসার অনিক দেব বর্মন সময় নিয়েছেন ৫ মিনিট ৫২ সেকেন্ড। সর্বশেষ যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়া আজিজুল হাকিমও ৬ মিনিটের কম সময়ে পরীক্ষা শেষ করেছেন।

আগামীকালও জাতীয় স্টেডিয়ামে ফিটনেস পরীক্ষার কার্যক্রম চলবে। এরপর প্রথম দফায় যারা নির্ধারিত মানে পৌঁছাতে পারবেন না, তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার আয়োজন করবে ক্রিকেট বোর্ড।