অন্যের প্রাচুর্যে হতাশ হওয়া যাবে না

মানুষের চাওয়া-পাওয়ার শেষ নেই। প্রত্যেকেই জীবনে ভালো থাকতে চায়। কেউ সম্পদ চায়, কেউ সম্মান, কেউ সফলতা। কিন্তু সবার জীবন এক রকম নয়। কারও জীবনে প্রাচুর্য বেশি, কারও জীবনে কম। কেউ সহজে সফলতা পায়, আবার কাউকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। অন্যের সুখ-সমৃদ্ধি দেখে নিজের জীবনকে ছোট মনে করা মানুষের স্বাভাবিক দুর্বলতা। তবে একজন মুমিনের উচিত, এই দুর্বলতা থেকে নিজেকে রক্ষা করা। অন্যের প্রাচুর্য দেখে হতাশ না হয়ে নিজের প্রাপ্তির জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং হালাল পথে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

ইসলাম মানুষের মধ্যে হিংসা, পরশ্রীকাতরতা ও অযথা প্রতিযোগিতার মনোভাব দূর করতে চায়। অন্যের সম্পদ বা সফলতা দেখে নিজের জীবন নিয়ে অসন্তুষ্ট হওয়া মুমিনের জন্য কল্যাণকর নয়। কারণ, প্রত্যেক মানুষের জীবন, রিজিক ও প্রাপ্তি আল্লাহর হেকমত অনুযায়ী নির্ধারিত। কারও হাতে বেশি সম্পদ থাকা মানেই তিনি আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়, এমন নয়। আবার কারও সম্পদ কম থাকা মানেই তিনি আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয়, তাও নয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর তোমরা এমন কিছু কামনা করো না, যা দ্বারা আল্লাহ তোমাদের কাউকে কারও ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। পুরুষ যা অর্জন করে, তা তার প্রাপ্য অংশ। আর নারী যা অর্জন করে, তা তার প্রাপ্য অংশ। আর তোমরা আল্লাহর কাছে তার অনুগ্রহ প্রার্থনা করো।’ (সুরা নিসা ৩২)

মানুষের প্রাপ্তি এক রকম নয়। কারও সম্পদ বেশি, কারও জ্ঞান বেশি, কারও শারীরিক শক্তি বেশি। প্রত্যেকের জীবনেই আল্লাহর দেওয়া কোনো না কোনো নেয়ামত রয়েছে। তাই অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা না করে নিজের দায়িত্ব ও প্রাপ্তির দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

অন্যের প্রাচুর্য দেখে হতাশ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ। মানুষ যখন সম্পদ, বাড়ি, গাড়ি কিংবা সামাজিক মর্যাদাকে জীবনের সফলতার একমাত্র মাপকাঠি মনে করে, তখন অন্যের উন্নতি তাকে কষ্ট দেয়। অথচ দুনিয়ার সম্পদ ক্ষণস্থায়ী। প্রকৃত সফলতা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা এবং পরকালের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।

লেখক : ইসলামি গবেষক