সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশ কেমন হবে

শিশুর শারীরিক, মানসিক, নৈতিক ও বুদ্ধিভিত্তিক বিকাশ কতটা সমৃদ্ধ হবে, বহুলাংশে নির্ভর করে মা-বাবা কীভাবে লালন করছেন তার ওপরে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিভাবকরা না জেনে শিশুর সঙ্গে এমন কিছু আচরণ করেন যা সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই শিশুর সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা যায়, আর কী আচরণ করা যায় নাÑ তা জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

লিখেছেন শ্যামল আতিক

বুদ্ধিভিত্তিক বিকাশের প্রথম শর্ত হচ্ছে শিশুর মধ্যে নিরাপত্তাবোধের অনুভূতি সৃষ্টি করা। প্রয়োজনীয় পুষ্টি, ইতিবাচক পরিবেশ ও সঠিক উদ্দীপনা পেলে যেকোনো শিশুর মেধার স্ফুরণ ঘটতে পারে। শিশু যত বেশি ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞার sensory experience) সম্মুখীন হবে তার মস্তিষ্কের নিউরনের সংযোগ তত বেশি হবে। তার মেধার বিকাশ তত মসৃণ হবে। মেধা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হচ্ছে মনঃসংযোগ। বাইরে থেকে কেউই এটা শিশুর জন্য করে দিতে পারে না। তাই শিশু যখন মনোযোগ দিয়ে কিছু করে তখন ব্যাঘাত সৃষ্টি করবেন না।

সুর বুঝে গান গাইতে পারাও এক ধরনের মেধা। রুচিশীল গান শোনা ও গান গাইতে উৎসাহিত করার মাধ্যমে শিশুর এই মেধাকে বিকশিত হতে দিন। শিশু কোনো কাজে চেষ্টারত থাকলে, সহযোগিতার নামে তার প্রয়াসকে ভ-ুল করবেন না। যখন মনোযোগ দিয়ে কোনো কাজ করে তখন বাহবাও দিতে যাবেন না। অর্থাৎ শিশুর প্রয়াস ও মনোযোগে বিঘ্ন ঘটাবেন না। শিশু সাদা কাগজে আঁকাবুঁকি করতে চাইলে বাধা দেবেন না। কারণ আঁকাআঁকির মধ্য দিয়েই শিশুর সৃজনশীলতা ও কল্পনা শক্তি বিকশিত হয়।

শিশুর স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির জন্য তার সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের খেলা খেলুন। কুইজ বা ধাঁধা, কার্ড, ক্রসওয়ার্ড ইত্যাদি স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। স্মৃতিশক্তি বাড়াতে শিশুকে ডিম, মধু, ডার্ক চকোলেট, বিভিন্ন ধরনের বাদাম, সামদ্রিক মাছ, মৌসুমি ফলমূল ও শাকসবজি খেতে দিন। শিশুকে প্রশ্ন করুন, প্রশ্ন করতে উদ্বুদ্ধ করুন। সঠিক প্রশ্ন করতে পারা একটি অনন্য যোগ্যতা। এর মাধ্যমে জ্ঞানের দরজা উন্মোচিত হয়। শিশু প্রশ্ন করলে বিরক্ত হবেন না। এক্ষেত্রে বিরক্তি হওয়া মানে শিশুর জানার আগ্রহকে নিরুৎসাহিত করা।

পড়াশোনায় ভালো হলে মেধাবী এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা। ভালো ফলাফল না করেও একজন শিশু ভালো গায়ক, খেলোয়াড়, চিত্রশিল্পী, বিজ্ঞানী ইত্যাদি আরও অনেক কিছু হতে পারে। অভিভাবক হিসেবে আপনার দায়িত্ব কীসে শিশুর মেধা আছে সেটা খুঁজে বের করা, সে অনুযায়ী শিশুকে চালিত করা। ব্যক্তিত্ব, আগ্রহ ও মেধা বুঝে শিশুকে তার লক্ষ্য ঠিক করতে দিন। শিশু যদি ঠিকভাবে তার লক্ষ্য স্থির করতে পারে, কাজের জন্য আপনাকে আর কিছু করতে হবে না।

আপনি জীবনে যা অর্জন করতে পারেননি, তা অর্জনের জন্য শিশুর সঙ্গে চাপাচাপি করবেন না। এমনও হতে পারে আপনি যা চাচ্ছেন, সে বিষয়ে শিশুর কোনো আগ্রহ নেই। সুপার কিড বা অলরাউন্ডার বানাতে গিয়ে শিশুর জীবনকে বিষিয়ে তুলবেন না। এটা শিশুর মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। শিশু অতি মেধাবী হলে তা জনে জনে বলে বেড়াবেন না। অল্প বয়সে খ্যাতির কারণে তার মধ্যে অহংকার মাথাচাড়া দিতে পারে।