কুয়াকাটায় নিজেকে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে মো. রাসেল হাওলাদার (২৮) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত রাসেল হাওলাদার ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার প্রতাপ এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাসেল নিজেকে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে কুয়াকাটার সি-স্টার ইন হোটেলে তিন দিনের জন্য একটি কক্ষ বুক করেন। পরে তার আচরণ ও পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হলে বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়। যাচাই-বাছাইয়ের পর তার পরিচয় ভুয়া বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুয়াকাটার একটি বিকাশের দোকানে ৩০ হাজার টাকা পাঠানোর কথা বলে প্রতারণার চেষ্টা করেন রাসেল।
বিকাশ ব্যবসায়ী হামীম জানান, রাসেল একটি নম্বর দিয়ে সেখানে ৩০ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন। নগদ টাকা চাইলে তিনি আগে ওই নম্বরে টাকা পাঠানোর কথা বলেন। তবে টাকা না দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। পরে হামীম তাকে নগদ টাকা দেখাতে বললে তিনি পাশের একটি দোকানে চলে যান। এতে সন্দেহ হলে হামীমসহ কয়েকজন তাকে অনুসরণ করেন। একপর্যায়ে টাকা দেখাতে না পারায় তাদের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়।
হামীম বলেন, পরে রাসেল নিজেকে কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থানরত পর্যটক হিসেবে পরিচয় দেন। হোটেলে গিয়ে জানা যায়, তিনি সেখানে নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে কক্ষ বুকিং করেছেন। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলে তারা এসে তার পরিচয় যাচাই করেন।
সী-স্টার ইন হোটেলের ম্যানেজার সোহেল রানা বলেন, রাসেল নামের ওই ব্যক্তি গত ২২ সেপ্টেম্বর নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে তিন দিনের জন্য হোটেলে কক্ষ বুক করেন। বুধবার একটি বিকাশের দোকানে প্রতারণা করতে গিয়ে তিনি ধরা পড়েন। পরে প্রশাসনের লোকজন এসে তাকে নিয়ে যায়। প্রথমে তিনি নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিলেও তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসীন সাদেক বলেন, রাসেল হাওলাদার নিজেকে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে প্রতারণার চেষ্টা করেছেন। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য-প্রমাণে দেখা গেছে, তিনি ৪৪তম বিসিএসের গেজেট ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবর্তন ও জাল করেছেন। সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে প্রতারণার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ১৭০ ধারায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৪৪তম বিসিএসের গেজেটে ২৩২ নম্বর ক্রমিকে থাকা ‘মো. রাসেল মিয়া’ নামটি পরিবর্তন করে ‘মো. রাসেল হাওলাদার’ করা হয়েছে। একইভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্রও জাল করার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া রাসেলের দুটি বিয়ে রয়েছে এবং প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, রাসেলকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া সাজা অনুযায়ী কারাগারে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।