ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির দাবি এরদোয়ানের

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে অংশ নিয়ে আবারও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে ব্যাপকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শান্তি বজায় রাখার মূল দায়িত্ব পালনে জাতিসংঘ ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ করে নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। গাজায় চলমান সংকট ও মানবিক বিপর্যয়ের কঠোর সমালোচনা করে এরদোয়ান বলেন, যাদের মধ্যে সামান্যতম মনুষ্যত্ব, সমবেদনা, দয়া, ন্যায়বিচার ও বিবেকবোধ রয়েছে, তাদের পক্ষে সেখানে যা ঘটছে তার প্রতি চোখ বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। ফিলিস্তিনি নেতাদের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের বাধার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস টানা দুই বছর ধরে সাধারণ পরিষদের এই হলে নিজের নির্ধারিত আসনে বসতে পারেননি। ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো এই অবিচার পুরো বিশ্ববিবেককে গভীরভাবে আঘাত করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যেসব দেশ এখনো স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি, সেসব দেশকে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান এরদোয়ান। একই সঙ্গে গাজায় যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দেন তিনি। নিরাপত্তা পরিষদকে আরও বিস্তৃত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল সংস্থায় রূপান্তরের জন্য বহু বছর ধরেই দাবি জানিয়ে আসছেন এরদোয়ান। জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ১৯০টিরও বেশি দেশের সার্বিক ইচ্ছাকে মাত্র পাঁচটি দেশের খেয়ালখুশির ওপর জিম্মি করে রাখার ব্যবস্থা কোনোভাবেই ন্যায়সংগত হতে পারে না। এই ব্যবস্থা বিশ্বের মানুষের পূর্ণ আস্থা অর্জনেও ব্যর্থ হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক শেষে সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী ও গণহত্যার স্থপতি’ হিসেবে আখ্যা দেন। এ সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে এলে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। পরে এক সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, জাতিসংঘে গিয়ে ইসরায়েলের বীর সেনাদের সত্য গল্প তুলে ধরাসহ মামদানির আসল রূপ উন্মোচন করবেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে নেতানিয়াহুর।

ট্রাম্পের গাজা কূটনীতি ‘লজ্জাজনক’

জাতিসংঘে নিজের বিদায়ী ভাষণে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ট্রাম্পের গাজা কূটনীতিকে ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ট্রাম্পের গাজা নীতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, তথাকথিত ওই শান্তি ঘোষণার পরও গাজায় কোনো মানবিক করিডর এক মুহূর্তের জন্যও চালু হয়নি। একই পডিয়াম থেকে ট্রাম্প তার গাজা পরিকল্পনাকে ‘ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্য’ হিসেবে দাবি করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এই বক্তব্য দেন ম্যাখোঁ।

বিদায়ী ভাষণে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘গাজার এই পরিস্থিতিতে আমরা নিষ্ক্রিয় থাকলে আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায় গিয়ে ঠেকবে?’ আগামী বছর মে মাসে দায়িত্ব ছাড়ার আগে এটিই জাতিসংঘে ফরাসি প্রেসিডেন্টের বিদায়ী ভাষণ।