পাকিস্তানে অনলাইনে যৌন নিপীড়নের শিকার ১৫ লাখ শিশু

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২২ এএম

একটি অনলাইন কম্পিউটার গেম খেলার সময় অপরিচিত এক ব্যক্তির ফাঁদে পা দিয়েছিল পাকিস্তানি কিশোরী জারা শাহ (ছদ্মনাম)। প্রথম দিকে তাদের মধ্যে সাধারণ কথাবার্তা হতো। কিš‘ সেই আলাপচারিতাই যে একসময় তাকে মারাত্মক অনলাইন যৌন নির্যাতনের দিকে নিযে যাবে তা সে কখনোই ভাবেনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে ১৭ বছর বয়সী এই কিশোরীর করুণ অভিজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুযায়ী, পাকিস্তানে এক বছরে প্রায় ১৫ লাখ শিশু ডিজিটাল মাধ্যমে এমন নীপিড়নের মুখোমুখি হচ্ছে। ভুক্তভোগী জারা জানায়, আমরা অনলাইনে গেম খেলার সময় কথা বলা শুরু করি। প্রথমে সে বন্ধুর মতো আচরণ করলেও পরে দেখা করার জন্য চাপ দেয়, একপর্যায় আপত্তিকর ছবি চায়। ইউনিসেফের প্রতিবেদন বলছে, জারার মতো ১২-১৭ বছর বয়সী ভুক্তভোগী শিশুদের ক্ষেত্রে প্রায় ৮৫ শতাংশ অপরাধীই তাদের পূর্ব পরিচিত থাকে। জারা স্বীকার করেছে পরিবারের কাছে সম্মান হারানোর এই তীব্র আতঙ্কই তাকে এতদিন মুখ খুলতে দেয়নি।

শিশুদের অনলাইনে ফাঁদে ফেলার কৌশল নিয়ে ইউনিসেফের বৈশ্বিক প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ড্যানিয়েল কার্দেফেল্ট বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন-বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপ, অনলাইনে গেমিংয়ের সময় কথাবার্তা কিংবা উপহার, অর্থ ও ভালোবাসার লোভ দেখিয়েই মূলত এই ধরনের নিপীড়নের সূত্রপাত হয়। সামাজিক বঞ্চনা ও পরিবারের ভয়ে দেশটির ৭১ শতাংশ ভুক্তভোগী শিশু এ তথ্য প্রকাশ করে না। জরিপে দেখা গেছে, এ বিষয়ে পুলিশ বা কোনো স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও আসেনি। শিশু অধিকার সংস্থা পাহচান এর পরিচালক মেহেক নাইমের মতে, মোট অভিযোগের প্রায় ৪৪ শতাংশই ঘটেছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মতো রক্ষণশীল সমাজে সাইবার হয়রানি এবং অনলাইনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টার ক্ষেত্রে মেয়েরাই সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত।

এই সংকটময় বাস্তবতায় পাঞ্জাব সরকার চলতি মাসে একটি বড় উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। প্রাদেশিক আইনসভায় ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে একটি বিল পাস করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তটির বিরোধিতা করেছেন ডিজিটাল অধিকারকর্মীরা। ডিজিটাল অধিকারকর্মী ওসামা খিলজী বলেন, শিশুরা খুব সহজেই ভিপিএন ব্যবহার করে এ বাধা এড়িয়ে যাবে। মুসলিম হ্যান্ডস-এর মুখপাত্র তাহিরা আফ্রাসিয়াব এর দাবি পাকিস্তানে শিশুদের সাইবার অপরাধ থেকে রক্ষার আইনি ব্যবস্থা থাকলেও, তার কার্যকারিতা শূন্যের কোঠায়। বিদ্যমান আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে গড়ে উঠেছে এক ভয়ংকর অপরাধের বাজার। মানবাধিকার আইনজীবী সালমান আফ্রিদি জানান, মাত্র ১০ হাজার রুপির লোভে ফেলে অসহায় ও দরিদ্র শিশুদের দিয়ে যৌন কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত