ছেলে ও মায়ের নামে ফেসবুক আইডি চালাচ্ছে কারা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও হত্যার শিকার একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) নামে একাধিক ফেসবুক ও টিকটক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব অ্যাকাউন্টের কয়েকটি অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর এবং মৃত্যুর পর খোলা হয়েছে বলে বিশ্লেষণে দেখা গেছে। আবার কয়েকটি অ্যাকাউন্ট আগে থেকেই খোলা থাকলেও পরবর্তী সময়ে নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিডি করেছে অপ্রতিমের পরিবার।

সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অপ্রতিমের নামে খোলা কয়েকটি ফেসবুক আইডি থেকে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তিতে তৈরি ছবি ও ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে। এসব কনটেন্টে অপ্রতিমের ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন কৃত্রিম দৃশ্য তৈরি করা হয়েছে। অ্যাকাউন্টগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখা যায়, যে কয়েকটি অ্যাকাউন্ট আগে থেকেই চালু ছিল। পরবর্তী সময়ে এসব অ্যাকাউন্টের নাম পরিবর্তন করে অপ্রতিম এবং তার মায়ের নাম দেওয়া হয়েছে। তবে অ্যাকাউন্টগুলো কারা পরিচালনা করছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ছিল ‘নাহিদা নাহিদ’ নামে। এই অ্যাকাউন্ট থেকেই তিনি অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পোস্ট দিয়েছিলেন। যে পোস্ট কয়েক হাজার শেয়ার হয়েছিল। যদিও এটি এখন সক্রিয় নেই। একই ‘নাহিদা নাহিদ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি অপ্রতিম হারিয়ে যাওয়ার পর খোলা হয়। আইডিটিতে ২ হাজার ফলোয়ার রয়েছে। এই আইডি থেকে অপ্রতিম হত্যাকা-ের বিভিন্ন ফুটেজ, নিউজ ও পোস্ট করা হয়। অ্যাকাউন্টটি থেকে ১০ ঘণ্টা আগে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে অপ্রতিম ও তার বাবা মাসহ কয়েকটি ছবি আপলোড দিয়ে লেখা হয়, ‘হাস্যোজ্জ্বল অপ্রতিম। অপ্রতিম আর নেই। প্রতিটা দিন কত কত শিশুর দীর্ঘ নিঃশ্বাস জমা হচ্ছে উপরে, হিসাব নেই। জানা  নেই, আর কত জমা হলে ভেঙে পড়বে আসমান!’

‘নাহিদা নাহিদ’ নামের আরেকটি আইডিতে রয়েছে পাঁচ হাজারের বেশি ফলোয়ার। সেখানে অপ্রতিমকে নিয়ে এআই ব্যবহার করে ভিডিও ও ফটোকার্ড বানিয়ে পোস্ট করা হয়।

‘অপ্রতিম’ নামের একটি আইডিতে প্রায় ৩০০ ফলোয়ার রয়েছে। আইডিতে অপ্রতিমের সঙ্গে এআই ব্যবহার করে একটি মেয়ের ছবি ব্যবহার করে প্রোফাইল পিকচার দেওয়া হয়। এই আইডি থেকেও অপ্রতিমের ছবি ও এ আই জেনারেটেড ভিডিও পোস্ট করা হয়।

অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, আমরা ফেইক আইডিগুলো দেখেছি এবং আমরা অনলাইনে জিডি করেছি। কাজ চলমান রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোহান তালুকদার বলেন, একটি মহল আইডির রিচ বাড়ানোর জন্য এই কাজ করছে। এদের প্রতিহত করা উচিত।

এদিকে অপ্রতিমকে বিভিন্নভাবে অপরাধের সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তার মা ড. নাহিদা বেগম।

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে নানা উপায়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমার ছেলেকে তাদের সঙ্গে জড়িয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, সেও তাদেরই একজন। অথচ আমার ছেলে নিষ্পাপ, ছোট বাচ্চা। সে এসবের কিছুই বোঝে না।’

উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ির বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।