বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে নতুন চুক্তির কথার মাঝে নিজের সুদূর ভবিষ্যৎ নিয়ে এক চমকপ্রদ ইশারাও দিলেন হ্যারি কেইন। প্রিমিয়ার লিগে ফিরে অ্যালান শিয়ারারের রেকর্ড তাড়া করার সুযোগ থাকলেও, আপাতত সেদিকে না গিয়ে বায়ার্নেই নিজের ভবিষ্যৎ পাকাপোক্ত করার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ইউরোপিয়ান অধ্যায় শেষে মেজর লিগ সকারে, যেখানে লিওনেল মেসির মতো মহাতারকারা ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন, সেখানেও ক্যারিয়ারের শেষ টানার প্রবল ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার।
টটেনহ্যাম ছেড়ে বায়ার্নে পা রাখার পর থেকেই গোলের পর গোল করে বুন্দেসলিগায় নিজের নাম খোদাই করে নিয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা। বাভারিয়ায় এখন পর্যন্ত ১৫৪ ম্যাচে ১৫২ গোল করার অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়া কেইন তার পরিবারসহ এই পরিবেশে ভীষণ সন্তুষ্ট।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের মুখোমুখি হয়ে বায়ার্নে চুক্তি নবায়নের অগ্রগতি নিয়ে কেইন বলেন, ‘আমাদের আলোচনা খুব ভালো পর্যায়ে আছে। আমরা চুক্তির বেশ কাছাকাছি চলে এসেছি। তবে এখনও কিছু ছোটখাটো বিষয় চূড়ান্ত করার বাকি আছে। আমি এখানে ভীষণ খুশি। আমার মনে খুব বেশি দেরি নেই, শিগগিরই এ বিষয়ে কোনো না কোনো ঘোষণা আসবে।’ কেইনের সঙ্গে বায়ার্নের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফর্ম ধরে রাখার চ্যালেঞ্জের কথা বলতে গিয়ে বায়ার্নের কোচ টমাস টুখেলের অধীনে নিজের ক্যারিয়ার আরও দীর্ঘায়িত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে কেইন আরও যোগ করেন, ‘দলের খেলোয়াড়, কোচ এবং সার্বিক পরিবেশের সঙ্গে আমি দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছি। আমি এই লেভেলে থাকতে চাই এবং যত দিন সম্ভব নিজের সর্বোচ্চটা দিতে চাই। বিশেষ করে বয়স বাড়ার পর কোনো জায়গায় যদি আপনার মৌসুম ভালো না কাটে, তবে তরুণ বয়সের তুলনায় পতনের ধাক্কাটা অনেক বেশি লাগে। তাই আমি কোচ ও সতীর্থদের সঙ্গে মিলে আমার ভেতর থেকে সেরাটা বের করে আনতে চাই, আমিও তাদের সাধ্যমতো সাহায্য করছি।’
আর এই বর্তমান ঠিকানা পাকাপোক্ত করার ভাবনার বাইরে নিজের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমেরিকান ফুটবল লিগের (এনএফএল) 'কিকার' হওয়ার উচ্চাশার পাশাপাশি মেসিদের লিগ অর্থাৎ এমএলএসে বুটজোড়া তুলে রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এই ইংলিশ তারকা। পেনাল্টি নেওয়ার চাপের সঙ্গে এনএফএলের কিকার পজিশনের মিল রয়েছে উল্লেখ করে কেইন বলেন, ‘আমি পেনাল্টি নিই এবং এটি [এনএফএলের কিকার হওয়া] ঠিক একই রকম চাপ ও কৌশলের ব্যাপার। যদি আমি এটি করতে যাই, তবে বিষয়টি নিয়ে আমি ভীষণ সিরিয়াস হব। নামার আগে আমি ছয় মাস থেকে এক বছর সময় নিয়ে পুরোদমে অনুশীলন করব। হয়তো ভবিষ্যতে আমি যখন এমএলএস বা ওই ধরনের কোথাও খেলব, তখন দুই মৌসুমের মাঝের সময়টা কাজে লাগিয়ে দুটোকে একসঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে।’
ফুটবলের পাশাপাশি গলফের প্রতি তার অন্ধ প্রেমের কথা বলতে গিয়ে তিনি মজার ছলে জানান, বিশ্বকাপ ফাইনাল (আর্জেন্টিনার কাছে সেমিতে হারের পর) দেখতে না পেরে তিনি সেদিন নিউইয়র্কে গলফ খেলতে চলে গিয়েছিলেন।
আর্জেন্টিনার কাছে হার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ক্ষত
সামনে যখন নতুন আরেকটা বড় টুর্নামেন্টের চ্যালেঞ্জ কড়া নাড়ছে, ঠিক তখনই অতীতের এক গভীর ক্ষত নাড়া দিয়েছে কেইনকে। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালের সেই বেদনাদায়ক বিদায়কে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় এবং কষ্টদায়ক হার বলে আখ্যায়িত করেছেন ইংলিশ অধিনায়ক। কাতার বিশ্বকাপের পেনাল্টি মিসের হতাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে এই হার, কারণ নিজেদের চেনা খেলার ধরন হারিয়ে ফেলার যন্ত্রণাটাই তাকে সবচেয়ে বেশি পোড়াচ্ছে।
আসন্ন নেশনস লিগে ওয়েম্বলিতে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের ভেতরের এই না বলা অনুভূতির কথা খোলামেলাভাবে শেয়ার করেছেন কেইন। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা মনে হচ্ছিল আমরা যেন দল হিসেবে নিজেদের মতো খেলতে পারিনি। আমরা যে ধরনের দল হতে চেয়েছিলাম এবং যেভাবে খেলার কথা বলেছিলাম, এটি তার ধারেকাছেও ছিল না। যখন আপনি আপনার নিজস্ব বিশ্বাস বা দর্শনের বাইরে গিয়ে হেরে যান, তখন সেই হার সাধারণ হারের চেয়ে দশগুণ বেশি কষ্ট দেয়।’
কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে পেনাল্টি মিসের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার মনে হয় এটি কাতারের পেনাল্টি মিসের চেয়েও বেশি কষ্ট দিয়েছে, কারণ এই পরাজয়টা যেভাবে এসেছিল তা মেনে নেওয়া কঠিন।’