জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে যুব বিক্ষোভ

জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং গণশুনানির মাধ্যমে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীতে যুব বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ যুব ফেডারেশনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা। সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব জাহিদ সুজন।

সভাপতির বক্তব্যে গোলাম মোস্তফা বলেন, একলাফে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সরকারের অপরিপক্বতা ও গণবিরোধী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। জনস্বার্থ বিবেচনা না করে এমন সিদ্ধান্ত জনগণের জীবনযাত্রায় সংকট আরও বাড়াবে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে দেশীয় উৎপাদন ব্যাহত হবে, জনঅসন্তোষ ও বেকারত্ব বাড়বে।

তিনি বলেন, শুধু বিরোধিতার রাজনীতি দিয়ে দেশের সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। বাংলাদেশকে নিজের পায়ে দাঁড় করাতে পুনর্গঠনের রাজনীতি প্রয়োজন। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাজনীতি করতে হবে। ন্যূনতম দাবি ও বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করা গেলে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক অধিকার রক্ষা করা সম্ভব।

বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, গণশুনানি ছাড়া জ্বালানির মূল্য বাড়ানো চলবে না। গণতন্ত্র শুধু সংসদে সীমাবদ্ধ নয়; রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে জনগণের মতামত, আলোচনা ও বিতর্কের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। তাই জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে গণশুনানি পুনর্বহাল করতে হবে।

তারা আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে ঘাটতি মেটানোর সিদ্ধান্ত উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ আরও বাড়াবে। চলমান সংকট মোকাবিলায় মূল্যবৃদ্ধির পরিবর্তে ভর্তুকি, অপচয় কমানো এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ন্যায্য বণ্টনের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

জুলহাসনাইন বাবু বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির আগে গণশুনানি জবাবদিহিতার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। ২০২২ সালে গণশুনানির নীতি বাতিল করে জনগণের অংশগ্রহণের পথ বন্ধ করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের উচিত আগের সরকারের গণবিরোধী পথ পরিহার করে গণতন্ত্র ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

জাহিদ সুজন বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে ইতোমধ্যে নিত্যপণ্যের দাম ও গাড়িভাড়া বেড়েছে। তাই জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। প্রয়োজন হলে সংকটকালে পে-স্কেল কার্যকরের সিদ্ধান্ত স্থগিত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে। সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

এ ছাড়া যুব বিক্ষোভে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ যুব ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য মুছা কলিমুল্লাহ, রাজা আহম্মেদ জুম্মন, আইরিন আক্তার, কবি রাসেল, রুবেল মিয়া হিমু, জাসেম আলমসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।