কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার দুটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, দোকানপাট ও বাড়িঘরে ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় উভয় উপজেলার অন্তত ৪০-৪৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানায় এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা ও বিকাল তিনটার দিকে মনোহরগঞ্জের নাথেরপেটুয়া ও আশপাশের এলাকায় এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাতিমারা গ্রামের এক দম্পতি নাথেরপেটুয়া পুরাতন বাজার এলাকার একটি মেলায় যান। সেখানে ওই নারীকে উত্ত্যক্ত (ইভটিজিং) করা হয়েছে—এমন অভিযোগে পরদিন বুধবার নাথেরপেটুয়া বাজারে ওই নারীর স্বজনদের সঙ্গে নাঙ্গলকোটের পুঁজকরা গ্রামের দুই অটোরিকশাচালক জাহাঙ্গীর ও মহসীনের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওই নারীর স্বজনরা দুই অটোরিকশাচালককে মারধর করেন।
এর জের ধরে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মনোহরগঞ্জের নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নের হাতিমারা গ্রাম এবং নাঙ্গলকোটের আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের পুঁজকরা গ্রামের বাসিন্দারা মাইকে ঘোষণা দিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষ চলাকালে পুঁজকরা গ্রামের আল মামুন কনজুমার ফ্যাক্টরি, অফিস এবং সুমনের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, হাতিমারা গ্রামের কয়েকটি দোকান ও বাড়িঘরেও হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন সেখানকার বাসিন্দারা।
ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান আল মামুন কনজুমার ফ্যাক্টরির ব্যবস্থাপক রাকিব বলেন, প্রতিদিনের মতো আমরা অফিসে কাজ করছিলাম। হঠাৎ হাতিমারা গ্রামের দুই শতাধিক লোক রামদা, চাপাতি ও হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের কারখানায় হামলা চালায়। তারা একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
হাতিমারা গ্রামের জামাইয়ের দোকানের মালিক মিলন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমাদের কী অপরাধ? কোনো ঘটনা ঘটলেই পুঁজকরা গ্রামের লোক এসে হামলা চালায়। আজও তারা এসে আমাদের দোকানপাট ও বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
নাথেরপেটুয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, নারীকে উত্ত্যক্ত করাকে কেন্দ্র করে দুই উপজেলার লোকজনের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে উভয় পক্ষকে বুঝিয়ে সরিয়ে দেয়। কিন্তু পুলিশ চলে আসার পর হাতিমারা গ্রামের বাসিন্দারা পুঁজকরা গ্রামে হামলা চালায়, পরবর্তীতে পুঁজকরা গ্রামের লোকেরাও পাল্টা হামলা চালায়।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের কারণে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে কিছু সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মহাসড়কে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক করে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলার প্রস্তুতি চলছে।