শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেনের শেষশয্যা হলো সিরাজগঞ্জে

গান, স্মৃতিচারণ ও রাষ্ট্রীয় সম্মান গার্ড অব অনারের মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হলো কবি ও শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেনকে। শুক্রবার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয় তাঁর মরদেহ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরদেহ সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা করে। সেখানে বিকাল ৫টায় স্ত্রী মল্লিকা হুসেনের কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণসহ নানা জটিলতা নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আখতার হুসেন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ক্যান্সার ও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন।

শহীদ মিনারে এই গুণিজনের মরদেহ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, খেলাঘর নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা, সংস্কৃতি মঞ্চ, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদ, দৈনিক প্রথম আলো, জাতীয় শিক্ষা সংস্কৃতি আন্দোলন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।

Akhter Husen

সাহিত্যিক আখতার হুসেনের ছোট ছেলে প্রমিত হুসেন বলেন, ‘আমার বাবা অত্যন্ত সহজ-সরল ও মানবিক মানুষ ছিলেন। সমসাময়িক অনেক সহকর্মীর মৃত্যু তাঁকে ভীষণভাবে ভেঙে দিয়েছিল। অসুস্থ হওয়ার পরও তিনি চিকিৎসকের কাছে যেতে চাইছিলেন না। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মস্তিষ্কে স্ট্রোক ধরা পড়ে। কৃত্রিম ভেন্টিলেটরে রেখেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি।’

বাবার চিকিৎসায় যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি আরো বলেন, 'যেসব শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মী চিকিৎসার অভাবে কষ্টে আছেন, তাঁদের জন্য একটি তহবিল গড়ে তোলা প্রয়োজন। কেউ যেন চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় শেষ বয়সে মারা না যান।’

শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের এই শ্রদ্ধা নিবেদনের এই আয়োজনে জাতীয় সংগীত ও নিজের লেখা ছাত্র ইউনিয়নের দলীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় আখতার হুসেনকে। এরপর এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সিরাজগঞ্জে স্ত্রী মল্লিকা হুসেনের কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়। 

ছয় দশকের বেশি সময় ধরে শিশু-কিশোরদের জন্য লিখেছেন আখতার হুসেন। ছড়া ও শিশুসাহিত্য, মৌলিক গ্রন্থ, জীবনী, অনুবাদ ও সম্পাদিত গ্রন্থসহ তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা শতাধিক।

সাহিত্যে অবদানের জন্য আখতার হুসেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক-শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার স্মৃতিপদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ প্রদত্ত মুক্তিযোদ্ধা কলম সৈনিক সম্মাননা স্মারক, মনিরউদ্দীন ইউসুফ সাহিত্য পুরস্কার, এম নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার, বজলুর রহমান স্মৃতিপদকসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন।

বাংলা একাডেমির ফেলো আখতার হুসেন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। সেই সাথে শিশুসংগঠন ‘খেলাঘর’-এর সংগঠক হিসেবে দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।