মহান আল্লাহর কাছে সন্তানের নিরাপত্তা, সুস্থতা, নেক আমল ও সুন্দর জীবনের জন্য প্রার্থনা করা মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কোরআন ও হাদিসে এমন কিছু দোয়া রয়েছে, যা সন্তানের কল্যাণের জন্য পড়া যায়। এমন তিনটি দোয়া উল্লেখ করা হলো।
১. ক্ষতি ও বদনজর থেকে রক্ষার দোয়া : মহানবী (সা.) তার নাতি হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর জন্য এই দোয়া পড়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন, ‘আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত-তাম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিন ওয়া হাম্মাতিন, ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ।’
অর্থ : আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর মাধ্যমে প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং সব ক্ষতিকর ও হিংসুকের বদনজর থেকে আশ্রয় চাই। (সহিহ বুখারি)
এই দোয়ায় শয়তান, ক্ষতিকর প্রাণী ও বদনজর থেকে আল্লাহর কাছে সুরক্ষা চাওয়া হয়েছে।
২. অসুস্থতা থেকে আরোগ্যের দোয়া : সন্তানসহ যেকোনো অসুস্থ ব্যক্তির জন্য এই দোয়া করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গেলে এই দোয়া পড়তেন, ‘আযহিবিল বা-সা রাব্বান নাস, ওয়াশফি আনতাশ শাফি, লা শিফাআ ইল্লা শিফাউক, শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামা।’
অর্থ : হে মানুষের প্রতিপালক, রোগ-ব্যাধি দূর করে দিন। আরোগ্য দান করুন, আপনিই তো আরোগ্যদাতা। আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই। এমন আরোগ্য দান করুন, যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না। (সহিহ বুখারি)
উপযুক্ত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবা নেওয়ার পাশাপাশি আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারি এবং মনে রাখতে পারি, শেষ পর্যন্ত সব আরোগ্য তার পক্ষ থেকেই আসে।
৩. নামাজে অবিচল রাখার দোয়া : ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের নামাজে উৎসাহিত করা উচিত। নামাজে অবিচলতার তওফিক পেতে আল্লাহর কাছে নিজের ও সন্তানদের জন্যও এই দোয়া করা যেতে পারে, ‘রাব্বিজআলনি মুকিমাস-সালাতি ওয়া মিন জুররিয়্যাতি, রাব্বানা ওয়া তাকাব্বাল দোয়া।’
অর্থ : হে আমার প্রতিপালক, আমাকে নামাজ প্রতিষ্ঠাকারী করুন এবং আমার সন্তানদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের প্রতিপালক, আমার দোয়া কবুল করুন। (সুরা ইবরাহিম ৪০)
লেখক : ইসলামি গবেষক