আল্লাহর ক্ষমা লাভের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৯ এএম

মানুষ কমবেশি ভুল করে। ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় গুনাহ করে। এটা স্বাভাাবিক বিষয়। অস্বাভাবিক হলো ভুলের ওপর অটল থাকা। গুনাহ থেকে ফিরে না আসা। যারা গুনাহের পর তওবার মাধ্যমে ফিরে আসে মহান আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। শুধু তাই নয়, মহান আল্লাহর কাছে বান্দার তওবা অত্যন্ত প্রিয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সেই মহান সত্তার কসম, যার হাতে আমার জীবন, যদি তোমরা গুনাহ না করতে, তবে আল্লাহ তোমাদের নিশ্চিহ্ন করে দিতেন এবং এমন এক জাতিকে নিয়ে আসতেন যারা গুনাহ করত এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করত। আর আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দিতেন।’ (সহিহ মুসলিম)

এই হাদিস গুনাহ করাকে উৎসাহিত করে না। বরং মানুষের স্বভাবগত দুর্বলতা এবং তওবার মাধ্যমে আল্লাহর ক্ষমা লাভের দরজা যে সর্বদা উন্মুক্ত, তা স্পষ্ট করে।

শুধু তওবা কবুলই নয়, বান্দার তওবায় মহান আল্লাহ অত্যন্ত আনন্দিত হন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া বাহন ফিরে পেয়ে কোনো ব্যক্তি যতটা আনন্দিত হয়, বান্দার তওবায় আল্লাহ তার চেয়েও বেশি আনন্দিত হন। (সহিহ বুখারি)

আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে অসংখ্য দোয়া ও ইস্তিগফার শিখিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হলো সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার। হজরত শাদ্দাদ ইবনে আওস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার (সর্বশ্রেষ্ঠ ইস্তিগফার) হলো বান্দার এই দোয়া বলা, ‘হে আল্লাহ! আপনি আমার প্রতিপালক। আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আমি আমার সাধ্যমতো আপনার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর অবিচল আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই। আমার প্রতি আপনার যে নেয়ামত রয়েছে তা আমি স্বীকার করছি এবং আমার অপরাধও আমি স্বীকার করছি। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। কারণ আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।’

যে ব্যক্তি দিনের বেলায় দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এটি পাঠ করে এবং সন্ধ্যার আগে মারা যায়, সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এটি পাঠ করে এবং সকাল হওয়ার আগে মারা যায়, সেও জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সহিহ বুখারি)

লেখক : শিক্ষার্থী, আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত