চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের দামে স্বস্তি মিলছে না। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দু-একটি পণ্যের দাম সামান্য ওঠানামা করলেও সামগ্রিকভাবে বাজারের পারদ ঊর্ধ্বমুখী। সবজি থেকে শুরু করে মাছ ও মুরগি—অধিকাংশ পণ্যের বাড়তি দামে নাভিশ্বাস উঠেছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের। বাজারের এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতিতে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, সবকিছুর দাম তো বেড়েই চলেছে, কমেছে কই?
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নগরীর কাজীর দেউড়ি, পাহাড়তলী ও নয়াবাজারের কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে একাধিক নিত্যপণ্যের দামে আগুনের আঁচ লেগেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে শীতের আগাম সবজির দাম কমা তো দূরের কথা, উল্টো আরও বেড়েছে। গত সপ্তাহে কেজিপ্রতি ২০০ টাকায় বিক্রি হওয়া ফুলকপি চলতি সপ্তাহে লাফিয়ে ২৫০ টাকায় ঠেকেছে। শিমের কেজি এখনো ২০০ থেকে ২৪০ টাকার চড়া দামে আটকে আছে। আর গত সপ্তাহে ১০০ টাকায় মেলা বেগুন এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।
বরবটি ও পটোলের দরও আগের মতোই রয়েছে। বরবটি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। লাউ প্রতি কেজি ৫০ টাকায় মিললেও বেশিরভাগ সবজিই কিনতে হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। ঝাল কমেনি কাঁচা মরিচেরও। এটি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়।
কাজীর দেউড়ি বাজারে সাপ্তাহিক বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. জিসম উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, ‘সপ্তাহের পর সপ্তাহ পার হচ্ছে, কিন্তু বাজারে কোনো স্বস্তি নেই। এক সপ্তাহে একটা জিনিসের দাম ৫ টাকা কমলে পরের সপ্তাহে অন্যটার দাম বাড়ে ২০ টাকা। এভাবে তো টানা দাম বেড়েই চলেছে। বাজার তদারকি না থাকলে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাবে।’
পাহাড়তলী বাজারের সবজি বিক্রেতা সুজন মিয়া বলেন, শীতের সবজি এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণে আসেনি। তাই গত সপ্তাহের তুলনায় দাম একটু বেশি।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, ইলিশের ভরা মৌসুমেও সাধারণ মানুষের পাতে পদ্মার ইলিশ ওঠানো দায় হয়ে পড়েছে। ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি। বাজারে পদ্মার ইলিশ আকারভেদে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে রূপচাঁদার দাম কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৩০০ টাকায় উঠেছে। ৯০০ টাকার বাগদা চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১৫০ টাকায়। সাধারণ কোরাল, শোল ও বোয়াল মাছও বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে।
মাছ ব্যবসায়ী শাবান আলী বলেন, বাজারে মাছ আছে। তবে মানসম্মত মাছ মিলছে কম। তাই দাম একটু বেশি।
নিম্ন ও মধ্যবিত্তের প্রোটিনের প্রধান ভরসা ব্রয়লার মুরগির দামেও ফের টান পড়েছে। গত সপ্তাহে ১৭০ টাকায় বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। দেশি মুরগি ৬২০ থেকে সাড়ে ৬০০ টাকায় মিললেও সোনালি মুরগির কেজি ৩৩০ টাকা এবং ডিমের ডজন ১৫০ টাকায় স্থির হয়ে আছে।
এদিকে বিভিন্ন বাজার ঘুরে পণ্যের দামের মধ্যে বেশ তারতম্য দেখা গেছে। একই মানের সবজি কোথাও ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও কোথাও বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। বাজারে পর্যাপ্ত তদারকি না থাকা এবং মূল্যতালিকা না টাঙানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।
হালিশহরের বাজারে বাজার করতে আসা মাঈন উদ্দীন বলেন, বাজারে কোনো দোকানেই মূল্যতালিকা নেই। যে যার মতো করে দাম নিচ্ছে। একই বরবটি এক দোকানে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা, আরেক দোকানে ১২০ টাকা।