'হামজার অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড লাগে না'

ফিফা আসিয়ান কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে যাওয়ার পর বাংলাদেশ দলে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। শেফিল্ড ইউনাইটেডের প্রভাবশালী মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী দলে থাকা সত্ত্বেও কেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার সোহেল রানাকে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড দেওয়া হলো—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নিয়মিত অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া একাদশে নিয়মিত না থাকা এবং অভিজ্ঞ সেন্টার-ব্যাক তপু বর্মন ইনজুরির কারণে ছিটকে যাওয়ায় সবাই ধরেই নিয়েছিল অধিনায়কের গুরুদায়িত্ব উঠতে যাচ্ছে হামজা চৌধুরীর কাঁধে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামেন সোহেল রানা, যদিও মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে সমর্থকদের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।

হামজাকে রেখে সোহেল রানাকে অধিনায়ক করার পেছনে মূল কারণ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ টমাস ডুলি। এই জার্মান-আমেরিকান কোচ এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে জানান, অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড পরতে দলের কোনো ফুটবলারই খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না!

ডুলি বলেন, "কেউই অধিনায়ক হতে চাইছিল না। এমনকি সোহেল নিজেও প্রথমে অধিনায়ক হতে চায়নি। পরবর্তীতে সে আমার কাছে এসে বলে, ‘কেউ যদি দায়িত্ব নিতে না চায়, তাহলে আমি এই চাপটুকু নিজের কাঁধে নিতে রাজি আছি এবং অধিনায়কের ব্যাজ পরতে চাই।’"
 
হামজা চৌধুরী নিজে অধিনায়কত্ব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন কি না—সে বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও ডুলি স্পষ্ট জানান, নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য হামজার আলাদা কোনো আর্মব্যান্ডের প্রয়োজন নেই।

"দলের নেতা হওয়ার জন্য হামজার অধিনায়কের ব্যাজের কোনো দরকার পড়ে না। সে সব জায়গাতেই একজন খাঁটি নেতা—লকার রুম, ড্রেসিংরুম, হোটেল কিংবা গ্যালারি, সব জায়গায় সে নেতা। সমর্থক বা অন্য কারোর জন্য যদি এটি দরকার হয়ে থাকে তবে তা ভিন্ন কথা, কিন্তু হামজার নিজের জন্য এটি একেবারেই অপ্রয়োজনীয়।"

মাঠে ডিফেন্ডিং ও ট্যাকলিংয়ের সময় হামজার মানসিকতার প্রশংসা করে ডুলি সতীর্থদেরও তার থেকে শেখার পরামর্শ দেন। ডুলি যোগ করেন, "আমি ইতোমধ্যে বাকি খেলোয়াড়দের বলেছি—যাদের মানসিকতা বা অ্যাটিটিউড কী জিনিস বুঝতে সমস্যা হয়, তারা যেন দেখে হামজা কীভাবে ওয়ান-অন-ওয়ান লড়াইয়ে জেতে। ও কীভাবে ডিফেন্স করে এবং ডিফেন্ডিংয়ের সময় তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ কেমন থাকে, তা দেখলেই সব স্পষ্ট হয়ে যায়।"