বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের জন্য নানা আনন্দ আয়োজন করেছে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক)। এর মধ্যে নারী ও শিশুদের অংশগ্রহণে ‘বল বদল’ ও ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ প্রতিযোগিতা দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সৈকতে এসব বিনোদনমূলক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। নারী ও শিশু পর্যটকদের অংশগ্রহণে এ সময় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে সৈকত এলাকা।
সৈকতে নারী ও শিশুদের জন্য ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ, বল বদল এবং পুরুষদের বালিশ বদলসহ বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
নারীদের ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন মাদারীপুর থেকে আসা পর্যটক অনিতা। দ্বিতীয় হন চাঁদনী এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন তানিয়া।
শিশুদের বল নিক্ষেপ প্রতিযোগিতায় প্রথম হন আবুল কাশেম, দ্বিতীয় আদনান এবং তৃতীয় হন আব্দুল্লাহ বিন মামুন। অন্যদিকে নারীদের বালিশ বদল প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন মোসাঃ সানজিদা আক্তার কনিকা, দ্বিতীয় হন মোসাঃ নাজমা এবং তৃতীয় হন মোসাঃ মাহমুদা।
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনকারী মাদারীপুরের পর্যটক অনিতা বলেন, ‘কুয়াকাটায় বেড়াতে এসে এমন একটি আয়োজনে অংশ নিতে পেরে খুব ভালো লেগেছে। প্রথম হবো ভাবিনি। খেলার সময় সবাই যেভাবে উৎসাহ দিয়েছে, সেটি আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্ব পর্যটন দিবসের এই আয়োজন আমাদের ভ্রমণের স্মৃতি আরও আনন্দময় করে রাখবে।’
টোয়াকের আয়োজকরা জানান, পর্যটকদের শুধু সমুদ্রসৈকত দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও কুয়াকাটায় পর্যটকদের জন্য এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা তাদের।
এর আগে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রোববার সকালে টোয়াকের উদ্যোগে কুয়াকাটায় র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় কুয়াকাটা পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে র্যালিটি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পর্যটন হলিডে হোমস প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালিতে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন, কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার, কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ, প্রেসক্লাবের প্রতিনিধি, পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় প্রায় পাঁচ শতাধিক পর্যটনকর্মী অংশ নেন।
পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনা, পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং পর্যটন খাতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্টরা। বক্তারা সৈকতের ভাঙন, দখল ও দূষণসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বড় কোনো আয়োজন ছাড়াই অনেকটা সাদাসিধাভাবেই এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে কুয়াকাটায় বাড়তি পর্যটকের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিও চোখে পড়েনি। তবে বিকেলে টোয়াকের উদ্যোগে সৈকতে আয়োজিত ব্যতিক্রমী খেলাধুলায় অংশ নিয়ে পর্যটকরা দিনটিকে আনন্দময় করে তোলেন।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সেক্রেটারি জেনারেল আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে পর্যটকদের আনন্দ দিতে আমরা দিনব্যাপী বিভিন্ন আয়োজন করেছি। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অংশগ্রহণে ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ, বল বদল এবং পুরুষদের জন্য বালিশ বদলসহ নানা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। পর্যটকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এসব আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। কুয়াকাটায় পর্যটকদের বিনোদনের জন্য নিয়মিত এ ধরনের ইভেন্ট আয়োজন করা প্রয়োজন। এতে পর্যটকরা সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি বাড়তি বিনোদনের সুযোগ পাবেন এবং কুয়াকাটার প্রতি তাদের আগ্রহ আরও বাড়বে।’