ম্যাচের আগে ইতিহাস বলছিল, এর আগে কখনো গ্রিসের বিপক্ষে হারেনি জার্মানি। সঙ্গে জার্মান ফুটবলের আকাশজুড়ে তখন নতুন এক বসন্তের হাওয়া লাগানোর প্রস্তুতি, ডাগআউটে বসেছেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। কিন্তু ঘরের মাঠে ঘরের চেনা দর্শকদের সামনে সেই নতুন অধ্যায়ের শুরুটাই যে এত দ্রুত এক দুঃস্বপ্নে রূপ নেবে তা ভেবেছিলই বা কয়জনে। সেসবের গল্প লিখেই অগসবার্গের ডব্লিউডব্লিউকে অ্যারেনায় উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে গ্রিসের বিপক্ষে ১-০ গোলের অপ্রত্যাশিত এক হারের স্বাদ পেয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
‘হারের শতভাগ দায় আমার’, ম্যাচ শেষে এই দ্ব্যর্থহীন স্বীকারোক্তিতেই স্পষ্ট হয়ে উঠল ক্লপের জার্মান অধ্যায়ের প্রাথমিক ধাক্কাটি কতটা তীব্র ছিল। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ড্রয়ের পর ঘরের মাঠে গ্রিসের মতো প্রতিপক্ষের কাছে ১-০ গোলের হার কেবলই এক বড় অঘটন যা ক্লপের জয়হীন যাত্রাকে আরও দীর্ঘায়িত করলো।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছিল জার্মানি। অপটা-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথমার্ধেই ৭৭ শতাংশ সময় বল নিজেদের পায়ে রেখেছিল ক্লপের শিষ্যরা। তবে বলের দখল ধরে রাখলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে উল্লেখযোগ্য কোনো গোলের সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয় স্বাগতিকরা।
ম্যাচের ৩২ মিনিটে করিম আদেয়েমির একটি শট গ্রিক গোলরক্ষক কোনস্টান্টিনোস জলোভাকিস দুর্দান্ত সেভ করে ফিরিয়ে দিলে গোলের খাতা খোলা হয়নি। অন্যদিকে, প্রথমার্ধে বেশ গুছিয়ে খেলা গ্রিকরা দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ফতিস ইওয়ানিদিসের বড় একটি সুযোগ মিস হওয়া এবং ডিফেন্ডার জোনাথন তাহের সময়মতো গোললাইন সেভ করার পরও শেষ রক্ষা হয়নি।
ম্যাচের ৭৪ মিনিটে আসে সেই মুহূর্ত, যা স্তব্ধ করে দেয় পুরো স্টেডিয়াম। ডি-বক্সের বাইরে থেকে দিমিত্রিওস কোর্বেলিসের নেওয়া একটি শট জার্মান ডিফেন্ডার জোশুয়া কিমিখের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে সরাসরি জালে জড়িয়ে যায়।
এই একটিমাত্র গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। র্যাঙ্কিংয়ে ৪১তম অবস্থানে থাকা গ্রিসের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবলে জার্মানির এটি ইতিহাসের প্রথম হার, যা ২০০৪ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের জন্য এনে দিয়েছে অনন্য এক গৌরব। এর আগে জার্মানদের বিপক্ষে ১০টি ম্যাচ খেলে ৭টিতে হেরে এবং ৩টিতে ড্র করেছিল গ্রিকরা। এই জয়ের ফলে নেশনস লিগ গ্রুপ ২-এর শীর্ষস্থানও দখল করে নিয়েছে তারা।
ম্যাচ শেষে ব্রডকাস্টার এআরডি-কে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় হারের সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন জার্মান কোচ ক্লপ। ম্যাচটি বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ারই একটি অংশ। স্কোয়াডের লাইনআপ, ফর্মেশন এবং এতগুলো পরিবর্তন, এর শতভাগ দায় একান্তই আমার।’
নতুন দল গঠন এবং সামনে এগোনোর পরিকল্পনা নিয়ে ব্রডকাস্টার এআরডি-কে ক্লপ আরও বলেন, ‘ফুটবল এমনই। এই ম্যাচে ড্র হলেও আমি মেনে নিতে পারতাম, কিন্তু হারটা বড় বেশি কঠিন। আমার মনে হয় না আমরা হেরে যাওয়ার মতো খেলেছি, কিন্তু তবুও ঘটনা ঘটে গেছে এবং আজ আমরা এই পরিস্থিতিতে আছি। আমাদের ফুটবলের জন্য আরও ট্রেনিং দরকার। দলটা সবেমাত্র নতুন করে গড়ে উঠেছে, তাই কিছু জায়গায় বোঝাপড়া ভালো হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা উল্টো ফল দিচ্ছে।’
দলের এই অপ্রত্যাশিত হারের পর হতাশা ও ক্ষোভের কথা লুকাননি জার্মান ডিফেন্ডার জোনাথন তাহ-ও। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা আজ যথেষ্ট ভালো পারফর্ম করতে পারিনি। হারলে আমরা স্বাভাবিকভাবেই হতাশ ও রাগান্বিত হই। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে। নতুন কোচের প্রতি দলের যে উন্মাদনা ও সমর্থন রয়েছে, তা এক হারে বদলে যাবে না। আমরা জানি সবাই খুশি নয়, তবে সামনের ম্যাচগুলোতে আমরা তা পুষিয়ে নেব।’
চলমান নেশনস লিগে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে আগামী বৃহস্পতিবার মিউনিখে সার্বিয়ার মুখোমুখি হবে জার্মানি, আর গ্রুপ পর্বের ফিরতি লেগের লড়াইয়ে আগামী রবিবার গ্রিসের মাঠে তাদের মোকাবেলা করবে ক্লপের দল।