ফাইন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে বা আর্থিক নিয়মনীতির বেড়াজাল পেরিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ওঠা শতাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর থেকেই তোলপাড় শুরু হয়েছে ইংলিশ ফুটবলে। এই রায়ের রেশ ধরেই ২০১১ সালের এফএ কাপ ফাইনালের স্মৃতি হাতড়ে ক্ষোভ ও আক্ষেপ উগরে দিয়েছেন তৎকালীন স্টোক সিটি কোচ টনি পুলিস।
সেবার ইয়াতে ইওর একমাত্র গোলে স্টোক সিটিকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ম্যান সিটি; কিন্তু বর্তমান এই আইনি রায়ের পর পুলিসের দাবি, নিয়ম ভেঙে গড়ে ওঠা সেই পরাশক্তির কাছে হেরে আদতে 'প্রতারিত' হয়েছিল তার দল।
বিবিসি স্পোর্টস-এর কলামে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে টনি পুলিস সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আমরা কবে আমাদের এফএ কাপ ফিরে পাব?’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘গত শুক্রবার খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে স্টোক সিটির সমস্ত সমর্থক আমাকে এই প্রশ্নটাই করছে। আমিও ঠিক একই কথা ভেবেছি।’ যদিও ম্যানসিটি এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আপিলের পথে হাঁটবে এবং সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবুও পুলিসের মতে ফাইনাল হারের সেই ক্ষত ও অবিচারের অনুভূতি আজ নতুন করে এক তিক্ত স্বাদ উপহার দিয়েছে।
নিয়ম ভাঙার বিষয়টি কীভাবে ম্যাচের ফলাফলকে প্রভাবিত করেছিল, তার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে পুলিস জানান, সেবার বার্সেলোনা থেকে প্রায় ২৪ মিলিয়ন পাউন্ডে দলভুক্ত হওয়া এবং সপ্তাহে ১ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ড বেতন পাওয়া ইয়াতে ইওর একক নৈপুণ্যই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছিল। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ম্যাচজয়ী গোলটি করা ইয়াতে ইও একা যা বেতন পেতেন, তা ছিল আমাদের যেকোনো খেলোয়াড়কে দেওয়া বেতনের দশ গুণ বেশি। তাছাড়া, ২০১০ সালে বার্সেলোনা থেকে তাকে দলে ভেড়াতে যে অর্থ খরচ হয়েছিল, তা ছিল আমাদের পুরো প্রথম একাদশের সম্মিলিত ট্রান্সফার ফির চেয়েও বেশি।’
অতীতে সুপারস্টার ও বিশ্বমানের কোচ রবার্তো মানচিনির দলের কাছে কেবল অল্পের জন্য হেরে যাওয়ার আক্ষেপ থাকলেও, বর্তমান এই আইনি সত্যের পর নিজের মানসিকতার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে সিটির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ ও শোরগোল নিয়ে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে। ক্লাবটির চেয়ারম্যান খালদুন আল-মোবারক তার এক বক্তব্যে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমাদের চারপাশে প্রচুর শোরগোল বা নয়েজ তৈরি হয়েছে, কিন্তু এতে কিছুই বদলায়নি। আমরা এর আগেও একসঙ্গে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি এবং জয়ী হয়েছি। এখনও এমন অনেকে আছে যারা আমাদের ক্লাবের গতিকে থামিয়ে দিতে চায়। আমরা তাদের সেই সুযোগ দেব না।’
পাশাপাশি সিটির অফিসিয়াল মুখপাত্র আরও জানিয়েছেন যে, প্রিমিয়ার লিগের প্রক্রিয়া এখনও চলমান এবং চূড়ান্ত গোপনীয়তা বজায় রেখেই তা সম্পন্ন হচ্ছে। তা সত্ত্বেও, ২০১১ সালের ফাইনালে মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে আর্থিক অসমতার লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার এই তিক্ততা সহজে ভুলতে পারছেন না টনি পুলিস ও স্টোক সিটি সমর্থকরা।