১৮ বছর পর পুরো ম্যাচ বেঞ্চে বসে মেজাজ হারালেন রোনালদো 

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম

ফর্ম যেমনই থাকুক, পর্তুগালের একাদশে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জায়গা যেন ছিল অবধারিত। অন্তত ২০০৮ সাল থেকে এমনটাই হয়ে আসছিল। ম্যাচে পারফর্মে একাধিকবার বিবর্ণ থাকলেও পরের ম্যাচে নিজের জায়গা নিয়ে যেন কখনোই ভাবতে হয়নি সিআরসেভেনকে। তবে গতকাল রাতে উয়েফা নেশনস লিগে নরওয়ের বিপক্ষে পর্তুগালের ২-১ গোলের জয়ের রাতে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলেন ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা।

দীর্ঘ ১৮ বছর পর প্রতিযোগিতামূলক কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে শুরুর একাদশ তো দূরের কথা, পুরো ৯০ মিনিট সাইডলাইনে বেঞ্চ গরম করেই কাটাতে হলো তাকে। এর আগে পর্তুগালের হয়ে কোনো অফিসিয়াল ম্যাচে সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ২০০৮ সালের ১৫ জুন। সেবার ইউরো কাপে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে (ম্যাচটিতে পর্তুগাল ২-০ গোলে হেরেছিল) বেঞ্চে বসে পুরো ম্যাচ কাটাতে হয়েছিল সিআরসেভেনকে।

দেড় যুগ পর পর নরওয়ের বিপক্ষে এই ম্যাচটিতেও সাইডলাইনে বসেই সময় কাটাতে হলো তাকে, এমনকি ম্যাচের শেষ দিকে ওয়ার্ম-আপ করা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত কোচ হোর্হে জেসুস তাকে আর মাঠে নামাননি।

আর ম্যাচ শেষে এই দীর্ঘ অপেক্ষার বিরক্তি ও ক্ষোভ যেন ঠিকরে বের হলো তার আচরণে। পর্তুগিজ গণমাধ্যম ও জোগো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সতীর্থরা যখন গ্যালারিতে উপস্থিত প্রায় ৫০০ পর্তুগিজ সমর্থকের সামনে হাততালি দিয়ে কৃতজ্ঞতা জানাতে গেলেন, ক্যাপ্টেন রোনালদো তখন তাদের সম্পূর্ণ এড়িয়ে সোজা টানেল দিয়ে ড্রেসিংরুমের পথ ধরলেন।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বভাবতই এই বিষয়টি নিয়ে কোচ জেসুসকে মুখোমুখি হতে হয় সাংবাদিকদের। রোনালদোর এভাবে সমর্থক এড়িয়ে চলে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজে কথা বলবেন। সঙ্গে তার এমন আচরণের বিষয়ে জেসুস বলেন, ‘এটি কেবলমাত্র তিনিই (রোনালদো) এর উত্তর দিতে পারেন।’ 

তবে ডাগআউটে রোনালদোকে পুরো ৯০ মিনিট বসিয়ে রাখার কারণ ও ট্যাকটিক্যাল সমীকরণ ব্যাখ্যা করে কোচ জেসুস বলেন, ‘আমি রোনালদোর সঙ্গে কথাও বলেছিলাম, পরিকল্পনা ছিল ম্যাচের শেষ আধা ঘণ্টায় তাকে নামাবো। কিন্তু ম্যাচের পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত সেটা করার প্রয়োজনীয়তা রাখেনি।’ 

রোনালদোকে শেষ পর্যন্ত মাঠে না নামানোর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন বদলি হিসেবে নামা ফরোয়ার্ড গনসালো রামোস। নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নয়ল্যান্ডের মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে রামোস চমৎকার এক গোল করার পাশাপাশি আরও একবার বল জালে জড়ালেও তা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এই বিষয়ে জেসুস আরও যোগ করে বলেন, ‘গনসালো ভালো খেলছিল। সে একটি গোল করেছে, আরেকটি গোল অফসাইডে বাতিল হয়েছে। তাই ওই সময়ে তাকে তুলে নেওয়াটা আমার কাছে ঠিক মনে হয়নি।’ 

একইসঙ্গে রোনালদোকে বসিয়ে রাখার বিষয়টি কোনো ফিটনেস সমস্যা বা শারীরিক ক্লান্তির কারণে ছিল না বলেও স্পষ্ট করে দেন পর্তুগিজ কোচ। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ‘তাকে (রোনালদো) বিশ্রাম দেওয়ার জন্য এমনটা করা হয়নি। সে পুরো ম্যাচ খেলার মতোই ফিট ছিল। আমি যতোক্ষণ চাইতাম, ততোক্ষণই সে খেলতে পারতো।’ তবে ভক্তদের আশ্বস্ত করে জেসুস ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী ১ অক্টোবর ডেনমার্কের বিপক্ষেই হয়তো শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে পর্তুগিজ মহাতারকাকে।

কোচ জেসুস অবশ্য এও জানিয়েছেন যে, নরওয়ের বিপক্ষে জয় পেলেও দলের কৌশলগত কিছু জায়গায় এখনও কাজ করার বাকি রয়েছে। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত