উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) টানা সপ্তম দিনের মতো ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এতে ক্লাস-পরীক্ষাসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বীয় পদে পুনর্বহালের দাবিতে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে সকাল ১১টা থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান ও কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। দুপুর ১টা পর্যন্ত তাদের এ কর্মসূচি চলার কথা রয়েছে। পরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল করার কথা রয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যাপক সায়েম দায়িত্ব নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক কোলাবোরেশন অফিস, রিসার্চ হাব ও ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত সময় পেলে চুয়েটের শিক্ষা ও গবেষণার পরিসর আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ ছিল।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’ চুয়েট পরিবারের উদ্বেগ, দেশ-বিদেশের অ্যালামনাইদের সংহতি, আন্তর্জাতিক একাডেমিক মহলের সমর্থন এবং অধ্যাপক সায়েমের নেওয়া শিক্ষা ও গবেষণামুখী উদ্যোগ বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তারা।
এর আগে চলতি বছরের ২৭ জুলাই চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন কয়েকশ শিক্ষার্থী। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর সকালে অধ্যাপক আবু সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদে এবং তাকে পুনর্বহালের দাবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে শিক্ষকদের পাশাপাশি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও আন্দোলনে যুক্ত হলে কর্মসূচি আরও বিস্তৃত হয়।