কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ

বিশেষ অভিযানে চার জেলা থেকে আটক ১,১১২   

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৯ পিএম

কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ ও কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে সারা দেশে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়েছে।এসব অভিযানে চট্টগ্রামে ৪৪৫, লক্ষ্মীপুরে ২৪৪, চাঁদপুরে ৪২৩ জনকে আটক করা হয়েছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

চট্টগ্রাম: জেলা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪৪৫ জনকে আটক করেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আটকের বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়।

এতে বলা হয়, রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার ১৭টি থানার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, বাজার, রেলস্টেশন, মাঠ, পরিত্যক্ত ও নির্জন স্থানসহ কিশোর আড্ডার সম্ভাব্য স্থানগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন স্থানে আড্ডারত ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত ৪৪৫ কিশোরকে শনাক্ত করা হলেও ৩৫৪ জন কিশোরকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ২৯৩ কিশোরকে অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকার মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ১৫২ জনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানায় জেলা পুলিশ।

লক্ষ্মীপুর: জেলা পুলিশের পাঁচ ঘণ্টার অভিযানে ২৪৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক সবার বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে রয়েছে। সদর, চন্দ্রগঞ্জ, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
তাদের মধ্যে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় ৪২ জন, চন্দ্রগঞ্জ থানায় ২১, রায়পুর থানায় ৪৪, রামগঞ্জ থানায় ৩৭ , রামগতি থানায় ৪৪ ও কমলনগর থানায় ৫৬ জন রয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন মাহমুদ ও শিক্ষক শামছুদ্দিন বাবুল বলেন, শহর এলাকায় অভিযান করলে হবে না। গ্রাম এলাকায় ও অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। 

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, উঠতি বয়সী কিশোররা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে জেলা পুলিশ এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি আটক কিশোরদের তথ্য-যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাঁদপুর: আট উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৩৭০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে ৩৫৫ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৫ জনের বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

জেলার আট থানা-পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ পৃথকভাবে এ অভিযান চালায়। রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) নাদিরা নুর।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর নির্দেশে এবং চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে আট থানা ও ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে চাঁদপুর সদরে ৩৫ জন, হাইমচরে ৪৮, ফরিদগঞ্জে ৪১, হাজীগঞ্জে ৩৭, কচুয়ায় ৬২, শাহরাস্তিতে ৪৫, মতলব উত্তরে ৫২ এবং মতলব দক্ষিণে ৩৬ জনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া ডিবি পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে আরও ১৪ জনকে আটক করে।

পরে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৫৫ জনের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৫ জনের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।

পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, কিশোর গ্যাং ও অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

মতলব: চাঁদপুর জেলার উত্তর মতলবে বিশেষ অভিযানে ৫৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং চাঁদপুর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি)-র দিকনির্দেশনায় এবং মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জাবির হাসনাইন সানিবের নির্দেশে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।  

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান জানান, আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। যাচাই-বাছাই শেষে যাদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকবে না, তাদের অভিভাবকদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবির হাসনাইন সানি্ব জানান, আমাদের মূল বার্তা হলো সন্ধ্যার পর কোনো শিক্ষার্থী পড়ার টেবিল ছেড়ে বাইরে আড্ডা দিতে পারবে না। কিশোরদের পড়ালেখায় ফিরিয়ে আনা, মাদক থেকে দূরে রাখা ও অপরাধমুক্ত রাখতে এ অভিযান চালানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত