বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৫ টহলজাহাজের নকশায় ফ্রান্সের মরিক

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জন্য ৩৮ মিটার দীর্ঘ ৫টি টহলজাহাজের নকশা তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে ফ্রান্সের নৌযান নকশা প্রতিষ্ঠান মরিক। ফরাসি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এক্সেইল-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান মরিক এ প্রকল্পে নরওয়ের নর্ডিক নেভাল এএস-এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে।

ফরাসি গণমাধ্যম ওয়েস্ট ফ্রন্স ও দ্য এট্রাম বেলির তথ্য অনুসারে, ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে জাহাজগুলোর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড (ডিইডব্লিউ) পাঁচটি জাহাজ নির্মাণ করবে। মরিক ও নর্ডিক নেভাল এএস যৌথভাবে জাহাজগুলোর নকশা ও প্রধান সরঞ্জামের নকশাসংক্রান্ত তথ্য শিপইয়ার্ডকে সরবরাহ করবে। প্রতিটি জাহাজের দৈর্ঘ্য হবে ৩৮ মিটার এবং সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ২২ নট।

জাহাজগুলোতে স্টিলের তৈরি হাল বা মূল কাঠামোর ওপর অ্যালুমিনিয়ামের সুপারস্ট্রাকচার ব্যবহার করা হবে। এই ধরনের নির্মাণ পদ্ধতি জাহাজের ওপরের অংশের ওজন কমানোর পাশাপাশি মূল কাঠামোকে শক্তিশালী রাখতে সহায়তা করে। টহলজাহাজগুলোতে রিমোটলি অপারেটেড ৩০ মিলিমিটার কামান স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি জাহাজে ক্রু ও অন্যান্য কর্মীসহ সর্বোচ্চ ২৯ জন থাকতে পারবেন। জাহাজগুলো একটানা সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত মিশনে থাকতে পারবে।

মরিকের প্রকাশিত নকশায় মডেলটির নাম দেওয়া হয়েছে আরপিভি ৩৮৫। জাহাজগুলোকে বিভিন্ন ধরনের কাজে ব্যবহারের উপযোগী করে নকশা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সামুদ্রিক নজরদারি, চোরাচালান ও অন্যান্য অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধ এবং বাংলাদেশের জলসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যদিও এগুলোকে নদীর টহলজাহাজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তবে উপকূলীয় এলাকাতেও এগুলো পরিচালনার উপযোগী হবে। বাংলাদেশের পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের বিস্তৃত নদীপথ ও বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় অঞ্চল পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এই সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিদ্যমান নকশার ভিত্তিতে নির্মাণ নতুন টহলজাহাজগুলোর নকশা মরিকের আগে তৈরি করা একটি উপকূলীয় টহলজাহাজের মডেলের ভিত্তিতে করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি ফরাসি ডিফেন্স জার্নালগুলোকে জানিয়েছে, তাদের এ ধরনের নকশার কার্যক্ষমতা বাস্তব পরিস্থিতিতে পরীক্ষা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে ব্যবহৃত জাহাজগুলোর অভিজ্ঞতাও বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে।

সম্পূর্ণ নতুন নকশা তৈরির পরিবর্তে বিদ্যমান একটি পরীক্ষিত নকশাকে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা হলে নকশা তৈরির সময় এবং নির্মাণের ক্ষেত্রে কারিগরি ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

মরিকের কমার্শিয়াল অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর ফাব্রিস ঘোজলান বলেন, এশিয়ায় মরিকের নতুন এই সাফল্য ইউরোপের বাইরেও তাদের টহলজাহাজের নকশার চাহিদা রয়েছে বলে প্রমাণ করে তিনি বলেন, বিশেষ করে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে মরিকের টহলজাহাজের নকশা ব্যবহারের সুযোগ বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় পরিস্থিতি ও পরিচালনাগত প্রয়োজন অনুযায়ী কাস্টমাইজড সমাধান দেওয়ার পাশাপাশি বাস্তব পরিস্থিতিতে পরীক্ষিত, কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

মরিক জানিয়েছে, তাদের নৌযানের হাল বা মূল কাঠামোর নকশাও টহলজাহাজ ও অফশোর পেট্রল ভেসেল নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

ফ্রান্সের মার্সেই, নঁত ও বেলজিয়ামে মরিকের কার্যালয় রয়েছে। বেসামরিক ও সামরিক—দুই খাতেই নতুন জাহাজ নির্মাণ, আধুনিকায়ন ও রূপান্তরের প্রকল্পে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলীরা কাজ করেন। প্রাথমিক নকশা থেকে শুরু করে জাহাজে বিভিন্ন ব্যবস্থা ও সরঞ্জাম সংযুক্ত করার কাজও তারা করে থাকে। মরিক ফরাসি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এক্সেইলের অংশ। এক্সেইল গঠিত হয়েছে ইসিএ গ্রুপ ও আইএক্সব্লু একীভূত হওয়ার পর।