‘ফেনী জেলাধীন পরশুরামের মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের কথা থাকলেও তা স্থগিত করে নতুন তারিখ ১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়। এ সফরকে ঘিরে ফেনী অঞ্চলে গড়ে তোলা হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়।
এদিকে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জেলা সফরে আসেন। সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ফেনী সফর উপলক্ষে পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট, মুহুরী নদীর তীরবর্তী এলাকা ও প্রস্তাবিত পথসভাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আগামী ১ অক্টোবর সকালে পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে একনেকে অনুমোদিত ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের 'মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন প্রকল্প' উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনের পর তিনি সেখানে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। এরপর ফুলগাজীতে গিয়ে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। সূচি অনুযায়ী, শুরুতে খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ করবেন এবং পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি দপ্তরসমূহে স্থাপিত ৯৬২.৫ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল উদ্বোধন করবেন। পরে ফুলগাজীর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় তিনি বিশ্রাম ও নামাজ আদায় করবেন।
দুপুর ৩টা থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৌঁছাবেন। সেখানে তিনটি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা, কৃষক কার্ড এবং দরিদ্র শিক্ষার্থী ও অসহায় মানুষের সহায়তা কার্যক্রম প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেবেন। অনুষ্ঠান শেষে দলীয় নেতাকর্মী ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
১ অক্টোবরের সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত নিরাপত্তা ছক তৈরি করেছে। সভাস্থলগুলোকে রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট—এই তিন জোনে ভাগ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হচ্ছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় পুলিশের দুই হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা সমন্বয় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় দুই হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তারা বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করবেন।
ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকার জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে এসএসএফ-এর পাশাপাশি পুলিশ, এসআরবি, বিজিবি ও কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা থাকবেন। তবে সব মিলিয়ে মোট কতজন সদস্য মোতায়েন থাকছেন, তা তিনি নির্দিষ্ট করে জানাননি।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম জানান, সভাস্থলকে তিনটি জোনে ভাগ করা হবে। বিশেষ সিকিউরিটি কার্ডধারীরা রেড জোনে প্রবেশের সুযোগ পাবেন, ইয়েলো জোনের নির্ধারিত কার্ডধারীরা যেতে পারবেন ইয়েলো জোনে, আর এই দুই জোনের বাইরের 'হোয়াইট জোনে' সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারবেন।
এদিকে সফর উপলক্ষে আনুষঙ্গিক প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে জনসভাস্থল প্রস্তুতের কাজ চলছে এবং পরশুরাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি অস্থায়ী হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হচ্ছে। মঞ্চ ও উদ্বোধনী ফলক তৈরির কাজও প্রায় শেষ।
জনসভায় আসা মানুষের পানির চাহিদা মেটাতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পানির ট্যাংক ও পোর্টেবল টয়লেটসহ স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে। এর পাশাপাশি পুরো এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ চলছে।
সড়ক যোগাযোগ নিরাপদ রাখতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ফেনী-পরশুরাম প্রধান সড়ক এবং পরশুরাম-সুবার বাজার সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো সংস্কার করছে। একইভাবে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের এলাকা নান্দনিকভাবে সাজানো হচ্ছে।