কন্যাশিশু আল্লাহর রহমত

কন্যাশিশু আল্লাহর বিশেষ রহমত। সমাজের কোথাও কোথাও এখনো কন্যাসন্তানের জন্মকে দুঃখের বিষয় হিসেবে দেখা হয়। এই মানসিকতা ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থী। ইসলাম কন্যাশিশুকে সম্মান, ভালোবাসা ও নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যখন তাদের কাউকে কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে থাকে দুঃখ ভারাক্রান্ত।’ (সুরা নাহল ৫৮)

পরের আয়াতে মহান আল্লাহ কন্যাসন্তানের জন্মে অসন্তুষ্ট ব্যক্তিদের মানসিকতার নিন্দা করেছেন। জাহেলি যুগে কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়ার মতো নিষ্ঠুর প্রথা প্রচলিত ছিল। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন জীবন্ত প্রোথিত কন্যাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, কী অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল?’ (সুরা তাকভির ৮-৯)

ইসলাম কন্যাশিশুর প্রতি এমন নির্মমতা চিরতরে প্রত্যাখ্যান করেছে। সন্তান ছেলে হোক কিংবা মেয়ে, প্রত্যেকেই আল্লাহর দান। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন।’ (সুরা শুরা ৪৯)

কন্যাসন্তানের প্রতিপালনকে ইসলাম বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দুটি কন্যাকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত লালন পালন করবে, কেয়ামতের দিন সে এবং আমি এভাবে আসব।’ এ কথা বলে তিনি তার দুই আঙুল একত্র করলেন। (সহিহ মুসলিম ২৬৩১)

এ হাদিসে কন্যাশিশুর যতœ ও সুশিক্ষার বিনিময়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সান্নিধ্য লাভের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। তাই কন্যাসন্তানকে বোঝা মনে না করে তার সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা প্রত্যেক অভিভাবকের দায়িত্ব।

কন্যাশিশুর অধিকার শুধু খাবার, পোশাক ও আশ্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার প্রয়োজন স্নেহ, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও নৈতিক প্রশিক্ষণ। তাকে দ্বীনি ও সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত করে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ছেলেসন্তানের মতো মেয়েসন্তানের প্রতিও সমান স্নেহ ও যতœশীল হতে হবে। সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা বণ্টনের ক্ষেত্রেও তার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

কন্যাশিশুর প্রতি অবহেলা, নির্যাতন এবং শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা খুবই জঘন্য অপরাধ। পরিবার ও সমাজকে এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতন হতে হবে। তার মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে।

কন্যাশিশুর যথাযথ পরিচর্যা ও সুন্দর চরিত্র গঠনের মধ্য দিয়ে একটি কল্যাণকর সমাজ গড়ে উঠতে পারে। ইসলামের শিক্ষা হলো, কন্যাসন্তানকে ভালোবাসা, মর্যাদা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে লালনপালন করা। এই শিক্ষার বাস্তবায়নেই কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং পরিবারে ছড়িয়ে পড়বে শান্তি ও কল্যাণ।

লেখক : ইসলামি গবেষক