সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে রহস্য। একসময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আটক থাকা এ সাবেক পুলিশপ্রধান এখন ঠিক কোথায় আছেন তা নিয়ে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারছে না বাংলাদেশ। তার বর্তমান অবস্থান জানতে ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়েও কাজে আসছে না। তবে দেশ রূপান্তর নিশ্চিত হয়েছে, বেনজীর আহমেদ বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দুবাই শহর থেকে অন্তত ২০০ কিলোমিটার দূরে বসবাস করছেন বলে স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে।
ওই সূত্রটি বলছে, বেনজীর আহমেদ আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন। দুবাইয়ে তার বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকায় ক্ষমতাসীন পরিবারের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্যের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে। দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাকে সব ধরনের সহায়তা করেছেন। এমনকি জামিনের ব্যবস্থাও করেছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ। ওই দেশের আদালত স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির জিম্মায় জামিন দেয়। মূলত প্রভাবশালীদের সহায়তা থাকায় বেনজীর আহমেদ অন্য দেশে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন না। তা ছাড়া আদালতও বলেছে, নির্দেশ ছাড়া তিনি দেশত্যাগ করতে পারবেন না। তারপরও ইন্টারপোল তার খোঁজ পাচ্ছে না। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন, তাকে ফিরিয়ে আনতে ’ল ফার্ম’ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে দুবাইয়ে অবস্থান করা কয়েকজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তি না থাকায় তাকে ফেরত পাওয়া কঠিন। তা ছাড়া বেনজীর আহমেদের দুবাইসহ কয়েকটি স্থানে সহায়-সম্পদ ও দুটি ভিন্ন দেশের পাসপোর্ট থাকা ও রয়েল পরিবারে যোগাযোগ থাকায় তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা অনেকটা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই কথা বলেছেন দুবাই পুলিশের এক কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরের দুবাই প্রতিনিধিকে বলেছেন, বেনজীর আহমেদকে নানা কারণে দেশে ফেরত দেওয়া সম্ভব হবে না।
জানা গেছে, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার ও জামিনের পর তার মুক্ত জীবনযাপনে দেশ-বিদেশে বইছে আলোচনার ঝড়। তাকে কোন প্রক্রিয়ায় দেশে আনা হবে তা নিয়ে সরকারের শীর্ষ মহলে আলোচনা চললেও হচ্ছে না কোনো অগ্রগতি। ইতিমধ্যে ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হয়েছে বাংলাদেশ। তবে পুলিশের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের আশঙ্কা যতই উদ্যোগ নেওয়া হোক না কেন বেনজীরকে দেশে ফেরানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ‘ল ফার্ম’ নিয়োগ দিলেও তা কাজে আসছে না।
সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, বেনজীর আহমেদ শুধু একজন পলাতক আসামি নন তিনি এক সময় বাংলাদেশের পুলিশপ্রধান ছিলেন, তার আগে র্যাবের মহাপরিচালক এবং ডিএমপির কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তিনি দেশ ছাড়েন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ফেরানো গেলে এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দুদক ও সরকারের জন্য বড় প্রতীকী সাফল্য হবে। তবে বেনজীরকে ফেরানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামনে এখন সময়সীমা অস্পষ্ট। প্রত্যর্পণ অনুরোধে মামলার শক্ত ভিত্তি দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ। বেনজীরের গ্রেপ্তার অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য বড় অগ্রগতি হতো। তবে এটি শেষ ধাপ নয়, পুলিশের রেড নোটিসে কোনো ব্যক্তি শনাক্ত বা গ্রেপ্তার হতে পারেন কিন্তু তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো নির্ভর করে যে দেশে তিনি আটক হয়ে ছিলেন সেই দেশের আইন, আদালত, প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত চুক্তি, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং মামলার নথিপত্রের গ্রহণযোগ্যতার ওপর। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর আরও কঠিন হয়ে পড়েছে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি। কারণ হিসেবে তারা বলেন, বেনজীর আহমেদ দুটি দেশের নাগরিক বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। দুবাইয়ে তার সহায়-সম্পদ আছে।
দুবাইয়ে সহায়-সম্পদই মূল কারণ : নাম প্রকাশ না করে দুবাইয়ের এক ব্যবসায়ী পুলিশের বরাত দিয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওই দেশের এক নাগরিকের সঙ্গে তার ব্যবসা আছে। হুট করে তাকে আনা যাবে না। ওই নাগরিক প্রভাবশালী ব্যক্তি। তার সঙ্গে ওই দেশে শেখ পরিবারের (আরব-আমিরাত সরকার) সুসম্পর্ক। জামিন দেওয়ার সময় তার জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। বেনজীর আহমেদ নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন। দুবাই পুলিশের কাছে যে তথ্য আছে বেনজীর আহমেদের অন্য কোনো দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই। কারণ প্রভাবশালী ব্যক্তি তাকে সব ধরনের সহায়তা করছেন। তিনি বলেন, গত ২৭ জুলাই আদালত থেকে জামিন পান বেনজীর। দুবাই ফৌজদারি আদালতে (প্রাথমিক বিচারিক আদালত) তাকে উপস্থাপন করা হয় ৫, রিয়াদ স্ট্রিট, উম্ম হুরাইর-১, দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত এই ঠিকানায়। আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পান তিনি। তবে অভিযুক্ত বেনজীরের পাসপোর্ট আদালতে জমা রাখার পাশাপাশি তার স্পন্সর স্থানীয় অ্যারাবিয়ান ও নিকটাত্মীয়ের পাসপোর্টও রাখা হয়েছে আদালতের জিম্মায়। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মিত হাজিরা দেওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। এসব শর্ত মেনে চলছেন তিনি।
জামিনের পেছনে যারা কাজ করেছেন তার সন্ধানে পুলিশ : এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন বাংলাদেশ তাকে কোথায় খুঁজবে এবং কীভাবে দেশে ফিরিয়ে আনবে? কারণ শুধু ইন্টারপোলের রেড নোটিস থাকলেই কোনো ব্যক্তিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয় না। প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন, আদালতের সিদ্ধান্ত, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং দুই দেশের মধ্যকার আইনি কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বেনজীর আহমেদকে ফেরানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে আলোচিত আইনি প্রশ্নগুলোর একটি হলো বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে নির্দিষ্ট প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। ফলে বিষয়টি সরাসরি কোনো দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় সম্পন্ন করার সুযোগ সীমিত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ আইনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। দুবাইয়ে অবস্থানের সময় বেনজীরের সঙ্গে কারা যোগাযোগ রেখেছিলেন, তার আইনজীবী কারা ছিলেন, মুক্তির পর তিনি কোথায় গেছেন এবং কোন আইনি অবস্থানে রয়েছেন এসব বিষয় আমরা জানার চেষ্টা করছি।’
ওই কর্মকর্তা বলেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারির পরেও বেনজীর আহমেদের অবস্থান শনাক্ত করা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর ধোঁয়াশা। সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে বেনজীর আহমেদ দুবাই থেকে অন্য কোনো দেশে যেতে পারবেন না। তারপরও তাকে আমরা ফেরত আনতে পারব না বলে মনে হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানকে গ্রেপ্তার করার পর দুবাই সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ থেকে পুলিশের একটি টিম ওই দেশে গিয়ে আলোচনাও করে আসে। কিন্তু তাকে আনাই যায়নি। জিসানের ওই দেশে ব্যবসা ও বেশকিছু সহায়-সম্পদ আছে। এসব দিক দুবাই কর্তৃপক্ষ বেশি আমলে নেয়। বেনজীরের ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে।
গ্রেপ্তার-জামিনের আগে-পরে চিঠি : পুলিশ সূত্র জানায়, এনসিবি আবুধাবি জানিয়েছে, ইউএইর ‘ফৌজদারি বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতা সংক্রান্ত’ ফেডারেল আইন নম্বর ৩৯/২০০৬-এর ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির প্রত্যর্পণ চেয়ে বাংলাদেশকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন পাঠাতে হবে। আইন অনুযায়ী প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে আরবি ভাষায় অনূদিত, যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত নিম্নোক্ত তথ্য ও নথি সংযুক্ত করতে হবে। যার মধ্যে রয়েছে প্রত্যর্পণযোগ্য ব্যক্তির নাম, পরিচয়, ছবি (যদি থাকে), জাতীয়তা, ঠিকানা এবং পরিচয় শনাক্তে সহায়ক অন্যান্য তথ্য; অভিযুক্ত অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন, নির্ধারিত শাস্তি এবং তামাদি-সংক্রান্ত বিধানের অনুলিপি, অনুরোধকারী দেশের বিচারিক কর্তৃপক্ষের জারি করা আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার বিস্তারিত বিবরণ, যেখানে অপরাধের প্রকৃতি, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং অপরাধ সংঘটনের স্থান উল্লেখ থাকতে হবে। তদন্তাধীন মামলার ক্ষেত্রে তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি সংযুক্ত করতে হবে, দণ্ডিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আদালতের রায় বা দণ্ডাদেশের সত্যায়িত অনুলিপি, অপরাধের বিবরণ, আরোপিত শাস্তি এবং রায় কার্যকরযোগ্য হওয়ার প্রমাণপত্র থাকতেই হবে। সে আলোকে বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনতে নথিপত্র পাঠিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জামিনের পরও ইন্টারপোলের কাছে একইভাবে চিঠি দিয়ে বলেছে তার অবস্থান শনাক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কূটনৈতিক চেষ্টা চালাচ্ছে।
বেনজীরের নামে ৬ মামলা : দুদকের তথ্যমতে, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা দায়ের করে দুদক। এর মধ্যে পাসপোর্ট জালিয়াতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলে রেড অ্যালার্ট জারির আবেদন করে দুদক। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোল রেড অ্যালার্ট জারির পর তাকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করার আবেদন করার সময় মামলার এজাহার ও অন্যান্য ডকুমেন্ট ইংরেজিতে রূপান্তর করে পাঠানো হয়। আমরা সঠিক সময়ে ওই দেশের ভাষায় কাগজপত্র পাঠানোর পর জামিনে বের হয়ে গেছেন তিনি। এখন সরকারের কোর্টে বল। তারাই বলতে পারবে আসলে বেনজীর আহমেদকে ফেরত পাবে কি না। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে বেনজীরের অবৈধভাবে অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা হয়েছে। তার ব্যবসার অংশীদার ও বেনামি সম্পত্তির দেখভালকারীরা এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে রয়েছেন। সরকারি চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও তথ্য গোপন করে বেসরকারি চাকরিজীবী হিসেবে সাধারণ পাসপোর্ট তৈরি করেন। ২০১৬ সালে পাসপোর্ট অধিদপ্তর এতে আপত্তি জানালে র্যাব সদর দপ্তরের তৎকালীন কতিপয় প্রভাবশালী কর্মকর্তা চাপ প্রয়োগ করে সেই পাসপোর্ট ছাড়িয়ে নেন। তার স্ত্রী জীশান মীর্জার বিরুদ্ধে ৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১৬ কোটি ১ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে।
কী নেই বেনজীরের :২০২৪ সালের ২৩ মে বেনজীর আহমেদের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেয় আদালত। সেই সঙ্গে তার ২৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ আর্থিক লেনদেনকারী মোট ৩৩টি অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়। বেনজীরের বিপুল সম্পদের মধ্যে গোপালগঞ্জের সাহাপুর ইউনিয়নে সাভানা ইকো রিসোর্ট নামের এক অভিজাত ও দৃষ্টিনন্দন পর্যটনকেন্দ্র, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের নামে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ছয়টি কোম্পানি, পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা, ঢাকার অভিজাত এলাকাগুলোতে দামি ফ্ল্যাট, বাড়ি আর ঢাকার কাছের এলাকায় বিঘার পর বিঘা জমি আছে। দুই মেয়ের নামে বেস্ট হোল্ডিংস ও পাঁচতারা হোটেল লা মেরিডিয়ানে আছে দুই লাখ শেয়ার। এ ছাড়া পূর্বাচলে আছে ৪০ কাঠার সুবিশাল জায়গাজুড়ে ডুপ্লেক্স বাড়ি, একই এলাকায় আছে ২২ কোটি টাকা মূল্যের আরও ১০ বিঘা জমি। তা ছাড়া বেনজীর পরিবারের সদস্যদের নামে গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে প্রায় ৬০০ বিঘা জমি রয়েছে, যার বেশিরভাগই হিন্দু সম্প্রদায়ের। তার স্ত্রী জীশান মীর্জার নামে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে একটি সাততলা বাড়ি ও বেনজীরের নামে ভাটারায় একটি চারতলা বাড়ি আছে। পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর, সাতক্ষীরা, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, বান্দরবান ও কক্সবাজারে বিশাল পরিমাণ জমি আছে।