বিশ্বকাপ জয়ের পর ঘরের মাঠে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে গোলবন্যায় ভাসালো স্পেন। উয়েফা নেশনস লিগের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ১৮ বছর বয়সী তারকা লামিন ইয়ামালের জোড়া গোল ও এক অ্যাসিস্টে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে 'লা রোজা'রা।
আন্দালুসিয়ার এস্তাদিও রামোন সানচেজ-পিজহুয়ান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে বল দখলের লড়াইয়ে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় স্বাগতিকরা। শনিবার ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই মিনিটের মাথায় গোল করা ইয়ামাল, এদিন স্লাভেন বিলিচের শিষ্যদের বিপক্ষে গোলের খাতা খুলতে সময় নেন মাত্র ৭৫ সেকেন্ড। ডি-বক্সের বাইরে থেকে চোখধাঁধানো এক বাঁ-পায়ের ফিনিশিংয়ে দলকে শুরুতেই এগিয়ে দেন তিনি। স্পেনের হয়ে এটি তার ৩৬ ম্যাচে ৯ম আন্তর্জাতিক গোল।
ম্যাচের প্রায় আধঘণ্টার মাথায় সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি লম্বা ফরোয়ার্ড ডিওন বেলজো, অভিজ্ঞ ইভান পেরিসিচের নিখুঁত ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে গোল করে স্তব্ধ করে দেন গ্যালারি।
তবে ক্রোয়েশিয়ার এই আনন্দ স্থায়ী হয়েছে মাত্র দুই মিনিট। ৬৩ গজ দূর থেকে ইয়ামালের বাড়ানো সুনির্দিষ্ট ক্রস ধরে জোরালো হেডে গোল করেন মার্ক পুবিল, পুনর্দখলে আনেন স্পেনের লিড।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬৩তম মিনিটে আবারও ইয়ামাল-জাদু! বার্সেলোনা সতীর্থ ও ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডোমিনিক লিভাকোভিচকে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় ও দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি নিশ্চিত করেন তিনি। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের ঠিক দুই মিনিট আগে নিখুঁত ড্রিবলিং ও দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ক্রোয়েশিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের ফরোয়ার্ড নিকো উইলিয়ামস।
ম্যাচ শুরুর আগে এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হয় পুরো স্টেডিয়াম। স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক রদ্রি ট্রফি তুলে ধরেন দর্শকদের সামনে। ট্রফিটি তার হাতে তুলে দেন ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী তারকা ও সেভিয়া কিংবদন্তি হেসুস নাভাস।
ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত ইয়ামাল বলেন, "বিশ্বকাপ ট্রফিটি ঘরের মাঠে দর্শকদের সামনে নিয়ে আসতে পেরে আমরা রোমাঞ্চকর অনুভব করছিলাম। একই সাথে ম্যাচ জিতে উৎসবটা পূর্ণ করতে পেরে দারুণ লাগছে।"
নেশনস লিগে গ্রুপের পরবর্তী ম্যাচে আগামী শনিবার চেকিয়ার মুখোমুখি হবে স্পেন।