২৭ সেপ্টেম্বর ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে অ্যাথলেটিকস কোচ সাজ্জাদ হোসেনকে প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ ওঠে। তাঁর পরনে ছিল টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্য পোশাকটিকে ‘indecent’ বলে আপত্তি জানান। ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর পুলিশ বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করে। মেট্রোরেলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও জানান, যাত্রীদের জন্য কোনো dress code নেই।
ঘটনাটির চূড়ান্ত দায় বা আইনি মূল্যায়ন তদন্তের বিষয়। কিন্তু তার আগেও একটি মৌলিক প্রশ্ন আছে: একজন frontline পুলিশ সদস্য যখন একজন নাগরিকের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেন, তখন কোন পর্যায়ে ব্যক্তিগত সামাজিক judgment শেষ হয়ে রাষ্ট্রীয় police power শুরু হয়?
প্রশ্নটি তাই শুধু ওই পুলিশ সদস্যের সিদ্ধান্তের নয়। রাষ্ট্র যে discretionary power একজন frontline সদস্যের হাতে দেয়, সেই ক্ষমতার আইনগত সীমা বোঝা এবং প্রয়োগ করার সক্ষমতা কীভাবে তৈরি হয়—প্রশ্নটি সেখানে।
বাংলাদেশ পুলিশ নিজেই মানবাধিকার, ন্যায়বিচারে সমান প্রবেশাধিকার এবং আইনের শাসনের ভিত্তিতে policing-এর সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলে। তাদের Human Rights পেজে সংবিধানসম্মত মানবাধিকারের নিশ্চয়তা সম্পর্কে সদস্যদের অবহিত থাকার কথাও বলা হয়েছে।
কিন্তু কোনো অধিকার সম্পর্কে জানা এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে সেই অধিকারের সীমা প্রয়োগ করতে পারা এক বিষয় নয়।
বাংলাদেশ পুলিশের প্রকাশ্য training architecture-এ Constable-রা ছয় মাসের basic training নেয় এবং চাকরিতে বিভিন্ন in-service training-ও পায়। পুলিশের নিজস্ব ভাষায়, Constable হলো তাদের entry-level position এবং “public face of policing in Bangladesh”—যারা সবচেয়ে মৌলিক স্তরে জনগণের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে।
অর্থাৎ frontline policing-এর জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক training কাঠামো আছে। পুলিশের training ব্যবস্থায় basic, in-service ও specialised training—এই তিন ধরনের কাঠামোও রয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য human-rights training-এর নির্দিষ্ট কোর্সের কথাও বাংলাদেশ পুলিশ প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছে।
তাই প্রশ্নটি “পুলিশকে মানবাধিকার শেখানো হয় কি না”—এত সরল নয়।
প্রশ্নটি হলো, এই জ্ঞান কীভাবে frontline decision-making-এর competence-এ রূপ নেয়।
একজন পুলিশ সদস্যকে শুধু আইন জানলেই হয় না। বাস্তব পরিস্থিতিতে তাঁকে বুঝতে হয়—কোন আচরণ আইনের অধীনে হস্তক্ষেপের threshold তৈরি করে, কখন কোনো নাগরিকের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়, কখন হস্তক্ষেপ প্রয়োজনীয়, আর কখন ব্যক্তিগত নৈতিক বা সামাজিক বিচারের জায়গা পেশাগত পুলিশি ক্ষমতা প্রয়োগের জায়গা নয়।
বাংলাদেশ পুলিশের Public Order Management-সংক্রান্ত নথিতেও proportional force প্রয়োগের জন্য নির্দিষ্ট জ্ঞান ও দক্ষতার প্রয়োজন, নিয়মিত training, good conduct এবং human-rights protection-এর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে; Constable পর্যায় পর্যন্ত Do’s and Don’ts-এর কথাও বলা হয়েছে।
অর্থাৎ institutional expectation-এর জায়গাটি অস্পষ্ট নয়। অস্পষ্টতাটি অন্য জায়গায়: এই competence কীভাবে শেখানো হয়, বাস্তব পরিস্থিতিতে কীভাবে অনুশীলন করানো হয় এবং কীভাবে যাচাই করা হয়?
এই প্রশ্নটির গুরুত্ব বোঝা যায় যখন পুলিশের discretionary power সরাসরি নাগরিকের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের পর্যায়ে যায়।
কিন্তু institutional expectation আর operational competence এক নয়। একজন পুলিশ সদস্যকে শুধু কী করতে হবে তা জানলেই হয় না; বাস্তব পরিস্থিতিতে কখন সেই ক্ষমতা প্রয়োগের আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়েছে, কখন হস্তক্ষেপটি প্রয়োজনীয়, এবং কখন ব্যক্তিগত সামাজিক বা নৈতিক বিচারকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে আলাদা রাখতে হবে—সেই সীমাগুলোও শনাক্ত করতে হয়। প্রশ্ন হলো, এই সক্ষমতা কীভাবে শেখানো, অনুশীলন এবং যাচাই করা হয়।
অর্থাৎ পুলিশি ক্ষমতা প্রয়োগের প্রশ্নটি নিজেই একটি আইনগত threshold-এর সঙ্গে যুক্ত।
এখানে একটি মৌলিক পার্থক্য তৈরি হয়: আইন প্রয়োগের ক্ষমতা থাকা আর যে পরিস্থিতিতে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করা আইনসঙ্গত হবে, সেই পরিস্থিতি শনাক্ত করতে পারা ভিন্ন বিষয়।
এই জায়গা থেকেই accountability-কে শুধু misconduct-এর পর শাস্তির প্রশ্ন হিসেবে দেখলে বিষয়টির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ পড়ে যায়।
অভিযোগ, তদন্ত ও দায় নির্ধারণ accountability-এর একটি স্তর। কিন্তু institutional accountability-এর আরেকটি প্রশ্ন হলো—একটি ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটি কী শেখে। কোনো incident কি supervisory review-এর মধ্য দিয়ে যায়? সেই review কি retraining বা operational guidance-এ ফিরে আসে? একই ধরনের সিদ্ধান্ত যেন আবার না ঘটে, তার জন্য training বা SOP বদলায় কি?
বাংলাদেশ পুলিশের নিজস্ব Citizen Charter-এও “অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ এবং উন্নততর কর্মসম্পাদনের পন্থা অন্বেষণ”-এর কথা বলা হয়েছে।
তাহলে সেই learning mechanism-কে frontline constitutional competence-এর ক্ষেত্রেও দেখা যায় কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
কারণ রাষ্ট্র যখন একজন frontline পুলিশ সদস্যকে ক্ষমতা দেয়, তখন শুধু ক্ষমতা প্রয়োগের দক্ষতাই যথেষ্ট নয়। সেই ক্ষমতার সীমা শনাক্ত করার দক্ষতাও পেশাগত যোগ্যতার অংশ হওয়া প্রয়োজন।
ফার্মগেট মেট্রো রেইলের ঘটনাটিকে একটি institutional stress test হিসেবে দেখা যেতে পারে: একজন পুলিশ সদস্য কোনো নাগরিকের আচরণ বা পোশাককে আপত্তিকর মনে করলে, কোন পর্যায়ে সেই ব্যক্তিগত judgment রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগের বৈধ ভিত্তিতে পরিণত হয়?
এবং আরও মৌলিক প্রশ্নটি হলো—
রাষ্ট্র যে ক্ষমতা frontline পুলিশ সদস্যের হাতে তুলে দেয়, সেই ক্ষমতার সীমা অতিক্রম না করার সক্ষমতাকেও কি রাষ্ট্র একটি বাধ্যতামূলক, ব্যবহারিক এবং যাচাইযোগ্য professional competence হিসেবে তৈরি করে?
আইন প্রয়োগের জন্য শুধু আইন জানা যথেষ্ট নয়।
কখন ক্ষমতা প্রয়োগ করা যায়—তার পাশাপাশি কখন সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করার আইনগত ভিত্তিই নেই, সেটিও জানতে হয়।
সেখানেই frontline policing-এর constitutional competence-এর আসল পরীক্ষা।
_____________
আনা নাসরীন
কলাম লেখক ও শিল্পী
Email: aananasrin@gmail.com