শিশুর জন্মগত হৃদরোগের লক্ষন ও প্রতিকার

বর্তমানে শিশুদের জন্মগত হৃদরোগ বা কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ বেশ উদ্বেগের একটি বিষয়। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি হাজার জীবিত শিশুর মধ্যে প্রায় ২৫ জনই জন্মগতভাবে হার্টের কোনো না কোনো ত্রুটি নিয়ে জন্মায়। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও সুচিকিৎসার অভাবে এদের মধ্যে অনেক শিশু জন্মের এক মাস বা এক বছরের মধ্যেই প্রাণ হারায়। সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয় এবং যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারলে এই শিশুদের বড় অংশকেই পুরোপুরি সুস্থ করে তোলা সম্ভব।

কারণ

গর্ভাবস্থায় মায়ের মারাত্মক কোনো সংক্রমণ (যেমন: রুবেলা)। বংশগত বা জিনগত ত্রুটি, গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ক্ষতিকর ওষুধ সেবন এবং ধূমপান বা মদ্যপানের মতো বদভ্যাস।

কীভাবে বুঝবেন

জন্মের পর শিশুর ঘন ঘন শ্বাস নেওয়া বা শ্বাসকষ্ট হওয়া। মায়ের দুধ পানের সময় শিশু হাঁপিয়ে ওঠা এবং অস্বাভাবিকভাবে ঘামতে থাকা। শিশুর ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম থাকা বা একেবারেই না বাড়া। কান্নার সময় শিশুর মুখমন্ডল ও ঠোঁট নীলাভ বা কালচে হয়ে যাওয়া। হাত ও পায়ের নখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া। একটু দৌড়াদৌড়ি বা খেলাধুলা করলেই দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া এবং মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া। হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এবং হৃৎস্পন্দনে অস্বাভাবিকতা।

চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা

বিনা অপারেশনে চিকিৎসা : এখন বুক না কেটেই বোতাম বা ডিভাইসের (Device) মাধ্যমে হার্টের ছিদ্র (ASD, VSD, PDA) বন্ধ করা যায়। এছাড়া বেলুনের সাহায্যে চিকন রক্তনালি বা ভালভ বড় করা এবং রিং বা স্টেন্ট (Stent)) পরানো সম্ভব।

কিছু জটিল ক্ষেত্রে ওপেন হার্ট সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।

ঝুঁকি কমাতে গর্ভবতী মায়ের করণীয়

গর্ভধারণের অন্তত তিন মাস আগে মাকে রুবেলা ভাইরাসের টিকা দেওয়া। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকা। মায়ের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা। নিকটাত্মীয় বা রক্ত-সম্পর্কীয়দের মধ্যে বিয়ে এড়িয়ে চলা এবং বেশি বয়সে গর্ভধারণ পরিহার করা।