৫০৭ কোটির ভুতুড়ে বিলে মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

মাগুরায় এক আবাসিক গ্রাহকের ৫০৭ কোটি টাকার ভুতুড়ে বিল এসেছে। বিষয়টি নিয়ে গতকাল বুধবার দুপুরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মো. মহিতুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বিলিং সুপারভাইজার সীমা রাঢ়ি রায়, বিলিং সহকারী সোমা রানী ঘোষ এবং বিল বিতরণকারী মো. তোরাব আলীকে।

ঘটনা প্রসঙ্গে জিএমের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ডিজিএম এস এম শাহিন আহসান বলেন, বিলের কপিতে বিলের সঙ্গে ডিমান্ড চার্জের একটি ঘর থাকে। কিন্তু কম্পিউটারে বিলিংসহকারী ডাটা এন্ট্রির সময় গ্রাহকের ৯ ডিজিটের মিটারের সিল নম্বরটি কপি করে বসিয়েছে। এতে তার বিল বেশি এসেছে। বিষয়টি বিলিং সুপারভাইজার ও বিল বিতরণকারীর চোখও এড়িয়ে গেছে। তবে ওই গ্রাহকের বিল ২৮ সেপ্টম্বর সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে এবং গতকাল ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি বিলও পরিশোধ করেছেন।

জানা গেছে, বিল পরিশোধে পর বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এটা বিদ্যুৎ ও জ¦ালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের নজরে পড়লে তিনি তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি গ্রাহক আলেয়া খাতুনের সঙ্গে গতকাল বুধবার দুপুরে মোবাইল ফোনে কথা বলেন এবং অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার জন্য তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।

প্রসঙ্গত, মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাভুক্ত মাগুরা সদর উপজেলার কেচুয়াডুবি গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে চলতি সেপ্টেম্বরে মাসের ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা বিদ্যুৎ বিল ইস্যু করা হয়। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি জানার পর মন্ত্রী অভিযোগটি তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মিটার পরিবর্তনের সময় যান্ত্রিক অসাবধানবশত সিল নম্বরের অঙ্কগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হওয়ায় এই অবিশ্বাস্য ভুতুড়ে বিল তৈরি হয়েছিল। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর এর সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।