তারিক আনাম খান বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত অভিনেতা, পরিচালক, লেখক ও প্রযোজক। তিনি একাধারে থিয়েটার, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র তিন মাধ্যমেই দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। তার জন্ম ১০ মে ১৯৫৩ সালে সাতক্ষীরার রসুলপুর গ্রামে। পিতা ফখরুল আনাম খান ও মা জাহানারা খানম। চার ভাই, চার বোনের মধ্যে তিন বোনের পর ভাইদের মধ্যে বড় তিনি। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, যুদ্ধের সময় সাংস্কৃতিক দলের মাধ্যমে অনুপ্রেরণামূলক নাটক ও গান পরিবেশন করেন। পরে যুদ্ধ শেষে তিনি অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেন এবং ১৯৭৬ সালে ভারতের ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায় (এনএসডি) স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনা করতে যান। ফিরে এসে ‘থিয়েটার’ দলে যোগ দেন। তিনি ১৯৯০ সালের ১১ অক্টোবর ঝুনা চৌধুরী, তৌকীর আহমেদ ও নাহিদ ফেরদৌস মেঘনাসহ অনেকের সহযোগিতায় নাট্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। নাট্যকেন্দ্রের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ প্রযোজনার নির্দেশনা তিনিই দিয়েছেন। ‘বিচ্ছু’ (মলিয়েরের নাটক অবলম্বনে) নাটকটি এই দলের প্রথম ও অন্যতম একটি প্রযোজনা। তার নির্দেশিত নাটক দেশ-বিদেশে অসংখ্যবার মঞ্চায়ন হয়েছে। তার ক্যারিয়ারে তিনি ৩০০-এর বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন। নব্বইয়ের দশকে... জিয়া আনসারির প্রযোজনায় ‘ তথাপি’ ধারাবাহিকে লাটভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান তিনি। তার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় সৈয়দ হাসান ইমামের ‘লাল সবুজের পালা’ (১৯৮১)-এ কবরীর বিপরীতে। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘ঘুড্ডি’, ‘সুরুজ মিয়া’, ‘জয়যাত্রা’, ‘ঘেটুপুত্র কমলা’, ‘দেশা : দ্য লিডার’, ‘আবার বসন্ত’, ‘মৃধা বনাম মৃধা’ প্রভৃতি। ২০১৪ সালে ‘দেশা : দ্য লিডার’-এর জন্য শ্রেষ্ঠ খলচরিত্রে এবং ২০১৯ সালে ‘আবার বসন্ত’-এর জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এ ছাড়া মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারসহ আরও বেশ কয়েকটি সম্মাননা অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অভিনেত্রী নিমা রহমানের সঙ্গে ১৯৮৫ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের একমাত্র পুত্র আরিক আনাম খান। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি বিজ্ঞাপন সংস্থা অ্যাডশপ প্রতিষ্ঠা করেন এবং হলিউডের ‘অ্যাভেঞ্জার্স : এজ অব আল্ট্রন’-এর বাংলাদেশ ইউনিটের প্রযোজনা তত্ত্বাবধায়ক হিসেবেও কাজ করেন। প্রায় পাঁচ দশক ধরে মঞ্চ, পর্দা ও পর্দার বাইরে নিরলস কাজ করে চলেছেন তারিক আনাম খান। পেশাদার থিয়েটার প্রতিষ্ঠায় তার লড়াই এখনও চলছে। আশা ছাড়েননি তিনি।