একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার ফেনী সফরে যাচ্ছেন। জেলার পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় বন্যানিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের উদ্বোধন, বৃক্ষরোপণ, রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ফেনীতে এটিই তার প্রথম সফর।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ফেনীতে প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। পরশুরাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছে। পরশুরামের মুহুরী নদী-সংলগ্ন ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে জনসভাস্থলের অবকাঠামো তৈরির প্রস্তুতিও প্রায় শেষ। সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক প্রধান সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে মেরামত ও সংস্কারকাজ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া সফরসূচি অনুযায়ী, আজ সকাল সাড়ে আটটায় প্রধানমন্ত্রী তার বাসভবন থেকে সড়কপথে পরশুরামের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছাবেন। সেখানে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যানিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। বেলা ১টা ১৫ মিনিটে পরশুরাম থেকে ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। বেলা দেড়টায় কলেজ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এরপর বেলা দুইটায় ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে ‘রুফটপ সোলার’ থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি। বেলা তিনটায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচি শেষে বিকেল পাঁচটায় তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে ফেনী ত্যাগ করবেন। রাত নয়টার দিকে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, পরশুরামে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক যে প্রকল্পের উদ্বোধন হবে, সেটি চলতি বছরের ১৬ জুন একনেকে অনুমোদন হয়। প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ফেনীর তিন উপজেলার সরকারি কার্যালয়ের ছাদে সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে, যা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে। ‘রুফটপ সোলার’ থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের এই কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনাক্রমে ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায় সরকারি ভবনগুলোর ছাদে সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিজস্ব অর্থায়ন থেকে তিন উপজেলায় ৯৬২ কিলোওয়াট বা প্রায় ১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিলোওয়াট, পরশুরামে ২৯৮ কিলোওয়াট ও ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার স্থাপন করা হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তায় এসএসএফ, পিজিআর ছাড়াও সীমান্ত এলাকা হওয়ায় নয় প্লাটুন বিজিবি, তিন হাজারের মতো পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের সদস্য, এসআরবি, কোস্ট গার্ড ও আনসার সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করবেন।