বিশ্ব পর্যটন দিবসের আলোচনায় বাংলাদেশের সুন্দরবন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ১০ কূটনীতিক। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি) আয়োজিত ‘অংশীজন ও বৈদেশিক কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময়’ সভায় এ আগ্রহ প্রকাশ করেন কূটনীতিকরা।
সভায় পশ্চিম এশিয়ার দেশ ইরান ও ইরাক, ইউরোপের তুরস্ক, মধ্যপ্রাচ্যের ওমান, আফ্রিকার আলজেরিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূটান ও পাকিস্তান ছাড়াও চীন, সিঙ্গাপুর এবং ইউনেস্কোর কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বিটিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, ট্যুরিজমের সম্ভাবনা বহুমাত্রিক। শুধু আমরাই বিদেশি পর্যটক চাইব, এটা ব্যবসার ধরন হতে পারে না। আমাদেরও অনেক ট্যুরিস্ট আছেন, যারা নিয়মিত বিদেশে ঘুরতে যান। তাদের জন্য পশ্চিম এশিয়া, আফ্রিকাসহ পর্যটনের সম্ভাবনা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সংস্কৃতি নিয়ে প্যাকেজ ট্যুরের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আমাদের বেসরকারি ট্যুর অপারেটরদের এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালনের সুযোগ রয়েছে। এর সঙ্গে বিমানের ব্যবসাও জড়িত। পর্যটক যত বাড়বে বিমানও তত বেশি যাত্রী পাবে।
বিটিভির সিইও বলেন, রিসোর্সের দিক থেকে বাংলাদেশ অনেক সমৃদ্ধ। নেপালে পাহাড় আছে, মালদ্বীপে সমুদ্র আছে; কিন্তু বাংলাদেশে নদী, সমুদ্র, পাহাড়, হাওর, বনÑ সবই রয়েছে। রয়েছে বিশ্বের অন্যতম সমাদৃত ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত, রাঙ্গামাটির লেক, সিলেটের নয়নাভিরাম হাওর।
এসব সম্পদ পরিকল্পিতভাবে কমপ্লিট প্যাকেজে উপস্থাপন ও বিদেশে প্রচার করতে পারলে বাংলাদেশকে নতুন পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এখন পর্যটক শুধু একটি স্থান দেখতে চান না; তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা চান। স্থানীয় খাবার, সংস্কৃতি, পণ্য ও মানুষের জীবনযাপনÑ সবকিছুকে একত্র করে পর্যটন প্যাকেজ তৈরি করতে হবে।