উইকেটের ধারণা ছাড়াই খেলার আক্ষেপ লিটনের

জাপানের নাগোয়ায় এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে সোনা জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে বাংলাদেশের। দীর্ঘ প্রস্তুতিহীনতা এবং উইকেটের আচরণ সম্পর্কে কোনো ধারণা না থাকাই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ বলে ম্যাচ শেষে খোলামেলা আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক লিটন দাস।

বৃষ্টিস্নাত ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ১৩ ওভারে ৭ উইকেটে ১১১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। দলের ব্যাটিং লাইনআপের শুরুতেই বিপর্যয় নেমে আসে। মাত্র ২১ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন তানজিদ হাসান, অধিনায়ক লিটন দাস ও পারভেজ হোসেন ইমনের মতো টপ অর্ডার ব্যাটাররা।

সাইফ হাসানও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। তবে মিডল অর্ডারে তাওহীদ হৃদয়ের লড়াকু ইনিংস দলকে একশো ছাড়ানো পুঁজি এনে দেয়। চারটি নজরকাড়া ছক্কার সাহায্যে মাত্র ২৫ বলে ৪৫ রানের এক ঝলমলে ইনিংস খেলেন হৃদয়। শেষ দিকে শেখ মেহেদী হাসানের ছোট কিন্তু কার্যকর দুটি চারে ১১১ রানে থামে ইনিংস।

স্বল্প পুঁজি নিয়ে লড়াইয়ে নেমে শুরুতেই কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে বেশ ভালোভাবেই চাপে ফেলেছিল শরীফুলরা। কিন্তু মাঝের ওভারগুলোতে সেই আগ্রাসী চাপ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় বোলিং আক্রমণ। আব্দুল সামাদ ও হাসান নাওয়াজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নেয় পাকিস্তান। বিশেষ করে মুস্তাফিজুর রহমানের ওভারটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখে। শেষ পর্যন্ত কোনো বড় বাধা ছাড়াই ৯ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।

ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমে দলের প্রস্তুতিহীনতা ও মাঠের বাইরে থাকার আক্ষেপ লুকাননি অধিনায়ক লিটন। দীর্ঘ দিন প্রতিযোগিতামূলক খেলার বাইরে থাকার পর সরাসরি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নামার চ্যালেঞ্জ কতটা কঠিন ছিল, তা নিজের বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন তিনি। ‘স্বাভাবিক, আপনি যখন কাভার আপ থাকবেন অনেকদিন তারপর যখন উইকেটটা খেলা হবে ২০ ওভার আপনি একটা আইডিয়া পাবেন। আমাদের হাতে তো কোনো আইডিয়া ছিল না বিকজ এখানে আমরা লাস্ট কয়দিন ধরে কোনো গেমও দেখি নাই এবং উইকেটে প্র্যাকটিস করার সুযোগও নেই। সো আইডিয়া ছাড়া আমরা ক্রিকেট খেলেছি ফার্স্ট কয়েকটা ওভার। এরপর আস্তে আস্তে ব্যাটসম্যানরা আইডিয়া পেয়েছে।’

বোলিং নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও অভিজ্ঞ পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন অধিনায়ক। ওই পরিস্থিতিতে ফিজই তার কাছে সেরা বিকল্প মনে হয়েছিল বলে জানান তিনি। ‘আমার কাছে বেস্ট অপশন মুস্তাফিজ মনে হয়েছে, আমি করিয়েছি। আপনার কাছে যদি কখনও মনে হয় অন্য অপশন বেস্ট, আপনি করাবেন।’

এছাড়া ব্যাটিংয়ে বিপর্যয় সামাল দেওয়ায় তরুণ ব্যাটার তৌহিদ হৃদয় এবং মোসাদ্দেক হোসেনের জুটির প্রশংসা করেন লিটন।

দেশ ছাড়ার আগে ফাইনাল খেলার যে লক্ষ্য ও স্বপ্ন লালন করেছিল দল, তা পূরণ না হওয়ায় হতাশা রয়েছে। সেই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের অধিনায়ক বলেন, ‘যখন দেশ ছাড়ি বলছিলাম যে আমরা ফাইনাল খেলতে চাই। ওই জায়গাটা আমরা যেতে পারিনি।’

তবে ব্যক্তিগত বা দলগত ব্যর্থতার এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবে এবং কাঙ্ক্ষিত সোনা জয়ের লক্ষ্য পূরণ করবে, এমনটাই বিশ্বাস লিটনের।