ইরানের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে ভেঙে পড়া যুদ্ধবিরতি পুনর্বহালের লক্ষ্যে তেহরানের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ইরানের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এর কয়েক দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। 

এদিকে একই দিনে ইরানের মিত্ররা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক থেকে তাদের সর্বশেষ সেনাদল প্রত্যাহার করে নেওয়ায়। চলতি শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত ইরাক যুদ্ধে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হন। ২০০৩ সালে মার্কিন বাহিনী তৎকালীন ইরাকি শাসক সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর যে অস্থিরতা শুরু হয়, তাতে ২ লাখের বেশি ইরাকি বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

তেহরান ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর 'প্রতিরোধের অক্ষ' বা  'এক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স' এর একটি সাফল্য হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার দীর্ঘদিনের লক্ষ্য পূরণের পথে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচনা করছে তারা।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ এখন অষ্টম মাসে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে তেহরান একটি প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেবে এবং বিনিময়ে ইরান সাত দিনের মধ্যে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে।

রবিবার ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রত্যাখ্যানপত্র পায়নি।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরান সরকারের এক মুখপাত্র জানান, আরাঘচি মার্কিন পক্ষের একটি জবাব ইরান সরকারকে পৌঁছে দিয়েছেন। 

ইরানের দাবি, তাদের সর্বশেষ পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি পুনর্বহাল করা। জুনে ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ওই চুক্তিতে সই করেছিলেন। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেটি ভেঙে পড়ে। ইরান শেষ পর্যন্ত এমন একটি চুক্তি চায়, যার মাধ্যমে উপকূল ঘেঁষে থাকা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকবে।