রাউজানে গোলাগুলি ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

চট্টগ্রামের রাউজানে ডাকাত আলম ও আজিজ বাহিনীর সঙ্গে পুলিশের গুলিবিনিময়ের ঘটনায় ১২ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১২ সদস্য আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ দিলদার হোসেন নামে গুলিবিদ্ধ এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে রাউজান থানার দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়াপাড়া এলাকা থেকে  তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার দিলদার হোসেন (৩৭)  মো.জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম দলের সদস্য।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও পলাতক সহযোগীরা সংঘবদ্ধ ও অস্ত্রধারী অপরাধী এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কদলপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুই রাউন্ড সীসা কার্তুজ, একটি করে রামদা ও ছোরা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। 

পুলিশ জানায়, মো.জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম ও মো. আজিজের নেতৃত্বে তাদের সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি ও আদায় করে আসছিল। সর্বশেষ ২৫ সেপ্টেম্বর তারা জনৈক আবু বক্কর চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করেন। এঘটনা তদন্তের ধারাবাহিকতায় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টায় দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়াপাড়ায় মো. জানে আলম ওরফে ডাকাত আলমের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম (৪২), মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বস (৫২), দিলদার হোসেন (৩৭), মো.রুবেল (২৭), মো. মামুন-অর-রশিদ ওরফে মামুন (৩৫) ও মো.বাঁচা (৪৫) সহ সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষায় পুলিশ পাল্টা গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।  এঘটনায় এসআই মো. জান্নাতুন নাঈম রাজন, মো. খোরশেদ আলম, মো. বায়েজিদ মৃধা, মো.জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই মো.জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস, মো. রবিউল হোসেনসহ ১২ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে আহত দিলদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি করে দোনলা বন্দুক, একনলা কাটা বন্দুক, ১১৯ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি, ৬ রাউন্ড সীসা কার্তুজ, চারটি রামদা, দুইটি করে বটি ও গুলি রাখার প্রসেস উদ্ধার করা হয়।