অস্বাস্থ্যকর খাবার ও ভেজাল ওষুধ: চট্টগ্রামে ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম

ফ্রিজে কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা খাবার রাখা, মেয়াদের উল্লেখ ছাড়া দধি বিক্রি, অতিরিক্ত দামে ডাব বিক্রি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ও অননুমোদিত বিদেশি ওষুধ বিপণনের অভিযোগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এলাকার পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে চমেক হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক ফয়েজ উল্লাহ।

অভিযান সূত্রে জানা গেছে, মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন খাবারের দোকান ‘সিএমসি ক্যাফে’র ফ্রিজে কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা খাবার রাখা ছিল। একই সঙ্গে অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশন করায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

একই ধরনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত এবং প্যাকেটে মেয়াদ উল্লেখ না করে দধি বিক্রির দায়ে ‘চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ক্যান্টিন’কেও ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

হাসপাতাল চত্বরে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে ডাব বিক্রি বন্ধে পরিচালিত অভিযানে ‘মেডিকোপ সুপার শপে’ মূল্যতালিকা না থাকা এবং ডাবের অতিরিক্ত দাম রাখার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানে হাসপাতাল এলাকার বিভিন্ন ফার্মেসিতেও তল্লাশি চালানো হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ ও অননুমোদিত বিদেশি ওষুধ বিক্রির দায়ে ‘স্বপ্না মেডিকেল স্টোরকে’ ৫০ হাজার টাকা এবং ‘জেবিএল সার্জিক্যাল ইউনিট-২’কে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক ফয়েজ উল্লাহ বলেন, ‘চমেক হাসপাতাল এলাকায় বিভিন্ন খাবার ও ওষুধের দোকানে অভিযান চালিয়ে নানা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এখানে যারা খেতে আসেন, তাদের রান্নাঘরে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। রান্নাঘরের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। আমরা দুটি খাবারের দোকানকে ১ লাখ করে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছি। এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ও অননুমোদিত ওষুধ বিক্রি এবং অতিরিক্ত দামে ডাব বিক্রির দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে আরও ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জরিমানা করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। আমরা আবারও তদারকি করতে যাব। পরিবর্তন না দেখলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থ রক্ষা ও রোগীদের হয়রানি বন্ধে চমেক সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত