‘তদন্ত হোক, বিএনপির সিদ্ধান্ত যেটা, সেটাই হবে’: এমপি মিষ্টি

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও দখলের ঘটনায় দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে দেখা করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা পৌনে দুইটার দিকে তিনি সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে যান এবং সেখানে প্রায় মিনিট পাঁচেক অবস্থান করেন। স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি সরাসরি সংসদ ভবন ত্যাগ করেন।

সংসদ ভবনের টানেলে পদত্যাগের বিষয়ে উপস্থিত সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি সরাসরি কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করতে রাজি হননি। ভেতরে কী কথা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি কেবল বলেন, ‘আমি স্পিকারের সঙ্গে কথা বলতে এসেছি, কথা বলেছি।’ পরবর্তীতে গাড়িতে ওঠার সময় পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে স্পিকার ডেকেছেন, তাই দেখা করেছি। তদন্ত হোক, বিএনপির সিদ্ধান্ত যেটা হবে, সেটাই হবে।’
 
তবে সংসদ ও দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, তিনি মূলত পদত্যাগ করার জন্যই স্পিকারের কাছে গিয়েছিলেন এবং বিষয়টি দলীয়ভাবে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানানো হতে পারে।

মূলত মিরপুরের ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’ গুঁড়িয়ে দেওয়া, লুটপাট ও জমি দখলের ঘটনায় এমপি মিষ্টির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসার পর সরকার ও বিএনপি চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি প্রধান তারেক রহমান তাকে দ্রুত পদত্যাগের কঠোর নির্দেশনা দেন। অন্যথায় দল থেকে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থার বার্তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি পদত্যাগের পরও দলীয়ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, রাড্ডার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি স্পর্শকাতর স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় নেতাকর্মীদের এমন কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় শীর্ষ পর্যায় থেকে এই কঠোর সিদ্ধান্ত এলো।