ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির রাজনৈতিক জীবনের সূচনা থেকে পদত্যাগের ঘটনা দেশের তৃণমূল রাজনীতির জটিল বাস্তবতাকে তুলে ধরে।
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রদলের কর্মী থেকে কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএস নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তার প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতির হাতেখড়ি। পারিবারিক বলয় তার রাজনৈতিক জীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে।
তিনি ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বোন এবং ধানমন্ডিতে আততায়ীদের গুলিতে নিহত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার সাইদুর রহমান নিউটনের স্ত্রী।
স্বামীর অকালমৃত্যুর পর তিনি ওই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। পরে সদ্য বিলুপ্ত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করে ঢাকার রাজনীতিতে, বিশেষ করে মিরপুর অঞ্চলে এক পরিচিত নেত্রীতে পরিণত হন তিনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় ২০২৬ সালের এপ্রিলে বিএনপি তাকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ থেকে মনোনয়ন দেয়। ওই বছরের ৩ মে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান এবং সংসদ সচিবালয়ের দুটি কমিটির সদস্য হন।
কিন্তু এই সাফল্যের মাত্র কয়েক মাসের মাথায় তার ক্যারিয়ারে নেমে আসে অভাবনীয় বিপর্যয়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে (মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র) হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে।
জনগুরুত্বপূর্ণ একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এমন নজিরবিহীন হামলায় দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হলে সরকার ও দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কঠোর তদন্তের ঘোষণার পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষার্থে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।
এমন আবহে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে তিনি স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
রাজপথের ত্যাগ ও পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের ওপর ভর করে তার যে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার গড়ে উঠেছিল, ক্ষমতা অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগে তা কয়েক মাসের মধ্যেই লাভ করল অপ্রত্যাশিত পরিণতি।
রাজপথের ত্যাগ ও পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের ওপর ভর করে তার যে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার গড়ে উঠেছিল, ক্ষমতা অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগে তা কয়েক মাসের মধ্যেই লাভ করল অপ্রত্যাশিত পরিণতি।